ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে নামতে পারেন বরিস জনসন, সমীক্ষা হিসেবে এগিয়ে সুনক
একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রিটেনের প্রধামন্ত্রীর দৌড়ে ঋষি সুনক বরিস জনসনের থেকে এগিয়ে,
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের পদত্যাগের পর ফের ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের দৌড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাকের পাশাপাশি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন রয়েছে। বরিস জনসনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ এসেছিল। তবে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে ঋষি সুনক।

প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে সুনক
ওপিনিয়ামের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৪ শতাংশ মানুষ সুনককে বেছে নিচ্ছেন। মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বেছে নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওপিনিয়ামের করা এই সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। কনজাররভেটিভ পার্টির শেষ নেতা নির্বাচনে ১০০টির টোরি সাংসদ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। যদি আগামী সপ্তাহে ফের কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়, সেক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে যাবেন ঋষি সুনক বলেই কনজারভেটিভ দলের তরফে মনে করা হচ্ছে।

অংশ নিতে পারেন বরিস জনসন
শনিবার পেনি মর্ডান্ট প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে নিজের নাম ঘোষণা করেন। ঋষি সুনক ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্রিটেনে জল্পনা শুরু হয়, প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ের জন্য মাঠে নামতে চলেছেন বরিস জনসন। জনসন তার প্রাক্তন সহযোগী জেমস ডুড্রিজকে ফের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তবে জনসন দলের অভ্যন্তরে কোনও বিতর্ক চাইছেন না। কনজারভেটি দলের সূত্র অনুযায়ী বরিস জনসন এই বিষয়ে ঋষি সুনকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, ব্রিটেনের অর্থনীতি মোটেও ভালো পরিস্থিতিতে নেই। বরিস জনসন ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির অবনতি হবে।

লিজ ট্রাসের পদত্যাগ
মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লিজ ট্রাস। তবে ইস্তফা দেওয়ার কিছুদিন আগে থেকেই এই নিয়ে ব্রিটেন জুড়ে জল্পনা তৈরি হয়। ইস্তফা দেওয়ার পর লিজ ট্রাস বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আমি আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারব না। আমি দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট দূর করার জন্য লড়াই করেছিলাম। আমি যখন দেশের দায়িত্ব নিয়েছিল, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতাবস্থা ছিল না। এত খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা কর কমানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম। একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রতিশ্রুতি রাখতে পারিনি। তাই আমি পদত্যাগ করছি।'

প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ
লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন সম্প্রতি সংসদে মিনি বাজেট পেশ করেছিলেন। সেই বাজেটে ব্রিটেনে কর বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচনের প্রচারের সময় তিনি কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কর কমানোর সিদ্ধান্তের প্রত্যাহারের পরেই তিনি দলের অভ্যন্তরেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন। লিজ ট্রাসের পদত্যাগের পরেই বিরোধী নেতা কিয়ার স্টারমার নির্বাচনের দাবি তোলেন। তবে বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টি নতুন নেতা খুঁজতেই ব্যস্ত। লিজ ট্রাসের পদত্যাগের পর ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications