আতঙ্ক বাড়িয়ে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি, পাঁচটি শহরে লকডাউন ঘোষণা
রিপোর্ট অনুযায়ী চিনে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি,
বিশ্ব জুড়ে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছিলেন, শীতের মরশুম শুরু হওয়ার পর থেকেই করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সেই আশঙ্কা করে চিনে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। চিনে দৈনিক করোনা সংক্রমণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন করে একাধিক শহরে লকডাউন ঘোষণা করেছে চিনা প্রশাসন।

চিনে নতুন করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
চিনে জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ৩১,৪৪৫ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারমধ্যে ২৭,৫১৭ জনের বিদেশ যাত্রার কোনো ইতিহাস নেই। চিনে ১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার হিসেবে দৈনিক সংক্রমণের হার কম মনে হলেও, চিন প্রথম থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিহত করতে প্রথম থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় চিনের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাঁরা মনে করছে চিনের প্রশাসন যে কোনও মুহূর্তে লকডাউন ঘোষণা করতে পারে।

করোনায় রেকর্ড আক্রান্ত
বুধবার দৈনিক করোনা সংক্রমণের গ্রাফ এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চিনের সংক্রমণের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চিনে ২৯,৯৩০ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সময় চিনের শূন্য কোভিড নীতির জেরে একাধিক শহরে লকডাউন ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। সেই লকডাউন পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলেছিল।

চিনের পাঁচটি শহরে লকডাউন
চিনে দৈনিক সংক্রমণ বাড়ার জেরে একাধিক শহরে চিনের প্রশাসন পাঁচ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। তবে চিনা প্রশাসনের লকডাউনের তীব্র বিরোধিতা করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। চিনা সরকারের লকডাউনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নাগরিকরা বিক্ষোভ করেন। চিনের নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে চিনা সরকার পাঁচটি শহরে লকডাউন ঘোষণা করে। যার ফলে চিনের প্রায় ৬মিলিয়নের বেশি মানুষকে ঘর বন্দি থাকতে হবে।

লকডাউনের বিরোধিতায় সাধারণ মানুষ
চিনের ঝেংঝো শহরের লকডাউনের ঘোষণার পরেই সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত কোনও নাগরিক বাইরে বের হতে পারবেন না। এছাড়াও ঘরের বাইরে বের হতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরে শহর জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শহরের প্রতিটি মানুষকে বাইরে বের হতে গেলে প্রতিদিন করোনা পরীক্ষা করা হতে হবে।

অসন্তোষ বাড়ছে চিনা নাগরিকদের মধ্যে
চিনের কঠোর শূন্য নীতির জেরে সাধারণ মানুষের মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে।চিনের বাণিজ্যের রাজধানী সাংহাইতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে চলতি বছরের এপ্রিলে এক মাসের বেশি লকডাউন ছিল। শহরে খাবারের আকাল দেখা দেয়। বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিদেশি সংস্থাগুলোর অধিকাংশ চিন থেকে ব্যবসা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। যার জেরে নতুন করে চিনে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে চিনা সরকার কঠোর শূন্য কোভিড নীতির সিদ্ধান্তে স্থির রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications