গাজায় শান্তির নতুন ভোর, পণবন্দি মুক্তিতে উচ্ছ্বাস, ট্রাম্পের সফরে বিক্ষোভ
গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ সংঘর্ষের পর অবশেষে শান্তি ফিরল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস মুক্তি দিয়েছে সমস্ত ইজরায়েলি পণবন্দিকে। ইজরায়েল সরকারও স্বীকার করেছে সেই তথ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূমিতে তাই এখন আনন্দের ঢেউ,মুখে হাসি।

ট্রাম্প গতকাল ঘোষণা করেছিলেন, "গাজায় যুদ্ধ শেষ।" কথার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাস ধাপে ধাপে মুক্তি দেয় মোট ২০ জন ইজরায়েলি বন্দিকে। প্রথমে ৭ জনকে, পরে আরও ১৩ জনকে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে এই বন্দি বিনিময় সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইজরায়েলও পাল্টা মুক্তি দেয় ১,৯০০ এর অধিক প্যালেস্টাইনি বন্দিকে। পরিবারে ফিরে আসা, আলিঙ্গন, কান্না আর স্বস্তির মুহূর্তের সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বমাধ্যমে।
ইজরায়েল সফর শেষে ট্রাম্প যান মিশরের শার্ম আল শেখে। সেখানে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি, তুরস্কের রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান, কাতারের আমির শেখ তামিমসহ বিশ্বের একাধিক নেতার উপস্থিতিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন গাজা যুদ্ধবিরতির চুক্তিপত্রে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজে বন্দি বিনিময়ের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন ও একে "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" বলে বর্ণনা করেন।
তেল আভিভে ট্রাম্পের আগমন যেন উৎসবে পরিণত হয়। সমুদ্রসৈকতজুড়ে বিশাল অক্ষরে লেখা "থ্যাঙ্ক ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট।" প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে জানান 'অভূতপূর্ব সাফল্যর' জন্য কৃতজ্ঞতা।
তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেও বিতর্ক এড়াতে পারেননি ট্রাম্প। ইজরায়েলি পার্লামেন্ট 'নেসেট' এ ভাষণ শুরু হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দুই বামপন্থী সদস্য। হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, মুখে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁদের বের করে দিলে পুনরায় শান্ত হয় পরিবেশ।
ট্রাম্প বলেন, "আজ পবিত্র ভূমিতে বন্দুকের আওয়াজ থেমেছে, ফিরেছে শান্তি। এটি এক নতুন ভোর।"
নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা পরে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, ট্রাম্পের শান্তিপ্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক প্রচার চালাবে ইজরায়েল। এদিন ট্রাম্পকে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মাননা "সোনার পায়রা" উপহার দেন তিনি।
গাজায় গতকাল ছিল তুলনামূলক শান্ত দিন। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর হাজার হাজার মানুষ ফিরেছেন ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপে। কেউ কেউ রাত্রিযাপন করেছেন সেই ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই, কিন্তু দীর্ঘদিন পরে প্রথমবারের মতো নিশ্চিন্তে। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কেও ফিরেছে জীবনের ছন্দ। প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও যোগ দিয়েছেন শান্তি সম্মেলনে, যদিও ইহুদি উৎসবের কারণে নেতানিয়াহু সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।
তবে গাজা যে ভূমি এতদিন ধরে ছিল আগুন আর মৃত্যুর প্রতীক, আজ সেখানে দেখা যাচ্ছে আশা আর শান্তির আলো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায়, "আকাশ আজ পরিষ্কার, হৃদয়েও নেমেছে শান্তি।" তবে ইতিহাস বলে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি যতটা অর্জন, ততটাই এক চলমান পরীক্ষা। সময়ই বলবে, এই নতুন ভোর সত্যিই কতটা স্থায়ী হয়।












Click it and Unblock the Notifications