১০০ দিন পেরিয়ে গেল যুদ্ধ, ইউক্রেনে প্রতি ৬ জনে একজন হয়ে যাচ্ছেন উদ্বাস্তু
দিন পেরিয়ে মাস। করতে করতে সাড়ে তিন মাস হতে চলল, যুদ্ধ করেই চলেছে দুই দেশ। একদিকে রাশিয়া, একদিকে ইউক্রেন। একদল মারছে, অন্য দল ঠেকাচ্ছে। ইউক্রেনের দিকে হেলে রয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটো। তাদের সাহায্যের এতদিন পরেও যুদ্ধ চালাতে সক্ষম হচ্ছে ছোট্ট দেশ ইউক্রেন। এসবের মাঝে পড়ে মানুষের অবস্থা খারাপ। জানা যাচ্ছে যে প্রতি ৬ ইউক্রেনীয়দের মধ্যে এখন একজন উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন, আর এঁরা সবাই গিয়ে মাথা গুঁজছেন পোল্যান্ডে।

পোল্যান্ডের পরিস্তিতি এখন কোন জায়গায় ?
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একটি দেশের জনসংখ্যার যদি ১০ শতাংশ বেড়ে যায় তা স্বভাবতই অস্বাভাবিক। আবার কোনও দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ যাদের মধ্যে বেশি রয়েছেন মহিলা এবং শিশু তাঁরা সীমানা দিয়ে পালিয়ে বাঁচছেন তাও এক অস্বাভাবিক চিত্র। প্রথম দেশটি পোল্যান্ড এবং দ্বিতিয়টি ইউক্রেন। ইউক্রেন থেকেই মানুষ বাস্তুহারা হয়ে এসে ঠাই নিচ্ছেন পোল্যান্ড। সেখানে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের ব্যাপকভাবে আগমন ঘটছে। আর তার জেরেই মাত্র তিন মাসে তাদের জনসংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

কোথায় যাচ্ছেন শরণার্থীরা ?
শরণার্থীরা মূলত পূর্ব ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলিতে পালিয়ে যাচ্ছেন। পোল্যান্ড তাদের বেশিরভাগকে স্থান দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরে রয়েছে রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, মলদোভা এবং স্লোভাকিয়া। ইউএনএইচসিআরের অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মানুষ পোল্যান্ডে প্রবেশ করেছে, যার ফলে প্রতিবেশী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র তিন মাসে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

বিপর্যয়ের পথে মানুষের জীবন
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে মানুষের জীবনকে যা কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি। তথ্য সেটাই বলছে। যুদ্ধ এখন ১০০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে যা ইউক্রেন থেকে প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন মানুষকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।

প্রতি ছয় জনে এক জন উদ্বাস্তু
ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যা এখন প্রায় ৩৭ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে এটি ছিল প্রায় ৪৩ মিলিয়ন। ইউক্রেনের প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন শরণার্থী হয়ে গিয়েছেন। এদিকে, পোল্যান্ডকে এখন বিশাল সংখ্যক মানুষের দায়িত্ব নেওয়ার উপায় কতদিন ধরে কতটা চালানো সম্ভব বা কীভাবে সম্ভব তা খুঁজে বের করতে হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সঙ্কটের মাত্রা এবং গতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি, রাষ্ট্রসংঘের মতে ৬.৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছেন এবং প্রায় ৮ মিলিয়ন ইউক্রেনীয় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংকট এতটাই ব্যাপক যে প্রতি সেকেন্ডে ইউক্রেনের প্রায় একজন শিশু যুদ্ধের শরণার্থী হয়ে উঠছে।

রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার উপর ৫৮৩১টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা হল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য এক দেশ অন্য দেশ বা সত্তার বিরুদ্ধে গৃহীত নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞা জারি হয় আর্থিক, অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে ধাক্কা দিতে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ায় ১১৪৪ টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ব্রিটেন রয়েছে যারা ৯৬৪টি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সুইজারল্যান্ড ৮৮৮টি নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ট্রেলিয়া ৮৪০টি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়ার উপর।
৪৮০০ টিরও বেশি ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে, তারপরে ৫৬২টি প্রতিষ্ঠান এবং ৪৫৮টি কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া কিছু মার্কি ব্র্যান্ডসহ বিপুল সংখ্যক বহুজাতিক কোম্পানি রাশিয়া থেকে সরে গিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০১৪ সাল থেকে, রাশিয়ার উপর ১০ হাজার ১৫৯ টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ আপডেটে অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির বিরুদ্ধে শাস্তি হিসাবে এই বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications