ফিরে এল জর্জ ফ্লয়েডের স্মৃতি, আমেরিকায় পুলিশের অত্যাচারে মর্মান্তিক মৃত্যু কৃষ্ণাঙ্গের
চার বছর আগে ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা বিশ্ববাসীর মনে। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার অপরাধে পুলিশের পায়ের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল জর্জ ফ্লয়েডের। সেই ঘটনার স্মৃতি আবার ফিরে এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবিদ্বেষের শিকার কৃষ্ণাঙ্গ। ফের একবার নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে চলে এল। সেইসঙ্গে মার্কিন মুলুকে মানবাধিকারের করুণ চিত্রটাও।
ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োতে। গত ১৮ এপ্রিল একটি পথ দুর্ঘটনার তদন্তে গিয়েই ফ্রাঙ্ক টাইসন নামে ৫৩ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। হেফাজতেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। ক্যান্টন পুলিশ বিভাগের তরফে এই মৃ্ত্যুর ঘটনা নিয়ে এখনও অবধি কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যা হাড়হিম করে দেওয়ার মতোই।

পুলিশ অফিসাররা টেনে হিঁচড়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে এবং হ্যান্ডকাফ পরায়। এক পুলিশ অফিসারকে তাঁর ঘাড়ের উপর পা দিয়ে চাপা দিতে দেখা যায়। ওই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি ক্রমাগত বলে যাচ্ছিলেন 'আমি শ্বাস নিতে পারছি না...আমার ঘাড় থেকে পা সরিয়ে নাও।' এরপরই দেখা যায় কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিটি নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর এক পুলিশ তাঁকে সিপিআর দিতে শুরু করে।তার টাইসনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
হাতকড়া পরানোর ৮ মিনিট পরে হাতকড়া খুলে পুলিশ কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর চেষ্টা শুরু করে পুলিশ৷ ঘটনাস্থলে আসেন হাসপাতালের কর্মীরাও৷ টাইসনকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ টাইসনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি৷
এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও তদন্তের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। অনেকে বলছেন, এ ঘটনা ২০২০ সালে মিনেয়াপোলিসে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডে তখন বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়েছিল। এরপরও কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশের নির্যাতন কমেনি।
এই ঘটনাটি চার বছর আগের মিনিয়াপলিস পুলিশের সাথে ফ্লয়েডের মারাত্মক সংঘর্ষের কথা মনে করিয়ে দেয়। ফ্লয়েডের হত্যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। আমেরিকা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।












Click it and Unblock the Notifications