Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

৩৬ ঘণ্টায় ৮০টি ড্রোন, 'অপারেশন সিঁদুরে' নুর খান ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার কথা স্বীকার করল পাকিস্তান

দীর্ঘদিনের অস্বীকারের পর অবশেষে মুখ খুলল পাকিস্তান। গত মে মাসে ভারতের 'অপারেশন সিঁঁদুরের' সময় রাওয়ালপিন্ডির চকলালা এলাকায় অবস্থিত নুর খান বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারত প্রায় ৮০টি ড্রোন পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে একটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সামরিক পরিকাঠামো ও আহত হন একাধিক সেনা সদস্য।

২৭ ডিসেম্বর বছরের শেষ সাংবাদিক বৈঠকে এই স্বীকারোক্তি করেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি জানান, ভারত পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে বড়সড় ড্রোন অভিযান চালিয়েছিল। যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয় বলে দাবি তাঁর।
দারের কথায়, "৩৬ ঘণ্টায় অন্তত ৮০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। আমরা ৭৯টি ড্রোন ভূপাতিত করি। তবে একটি ড্রোন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে ও তাতে ক্ষয়ক্ষতি ও আহতের ঘটনা ঘটে।" এই আঘাত লাগে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম সংবেদনশীল ঘাঁটি নুর খান এয়ারবেসে, যা সেনা সদর দফতর ও রাজধানীর অত্যন্ত কাছেই অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য পাকিস্তানের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে বড়সড় সরে আসা। আগে একাধিকবার তারা ভারতীয় হামলার ক্ষয়ক্ষতি খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছিল।
দার আরও জানান, ৯ মে রাতেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠকে বসে পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব। সেখানে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পাল্টা পদক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি ১০ মে ভোরে নুর খান ঘাঁটিতে ভারতের হামলাকে "ভুল সিদ্ধান্ত" বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হওয়ার পরই প্রতিশোধ হিসেবে ৭ মে ভোরে 'অপারেশন সিঁঁদুর' শুরু করে ভারত। প্রথমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। পরে সেই অভিযান বিস্তৃত হয় সামরিক স্থাপনাতেও। ভারতের দাবি অনুযায়ী, সর্গোধা, রফিকি, জ্যাকবাবাদ, মুরিদকে সহ মোট ১১টি পাক বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু।

পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সেনার প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) কেজেএস ধিল্লোঁ। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমেই জানানো হয়েছে বহু মরণোত্তর বীরত্ব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, "যদি ১৩৮টি গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড মরণোত্তর দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে মৃতের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ এর কম হওয়ার কথা নয়। শুধুমাত্র সামান্য আহতের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।"

তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের তোলা ভিডিওতেও নুর খান ঘাঁটিকে আগুনে জ্বলতে দেখা গিয়েছে। এর আগেও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, ৯ ও ১০ মে মধ্যরাতে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তাঁকে নুর খান ঘাঁটিতে হামলার কথা জানান। জুলাই মাসে তাঁর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ দাবি করেন, নুর খানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে কি না তা বোঝার জন্য পাকিস্তানের হাতে ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

দার যদিও স্পষ্ট করেছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন পাকিস্তান মধ্যস্থতা চায়নি। তবে তাঁর দাবি, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ও শেষ পর্যন্ত ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করেন।
চার দিনের এই সংঘর্ষ শেষ হয় সামরিক কার্যক্রম বন্ধের সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনাই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক কতটা উচ্চঝুঁকির সীমারেখায় দাঁড়িয়ে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+