ফের করোনা সংক্রমিত ৬ জন, পাঁচদিনে পুরো শহরের কোভিড টেস্ট, লক্ষ্য চিনের
পাঁচদিনে পুরো শহরের কোভিড টেস্ট, লক্ষ্য চিনের
গত বছরের ডিসেম্বরে চিনের উহান শহর থেকেই করোনা ভাইরাস নামক মারণ রোগটি ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। যার মাসুল গুনতে হচ্ছে আমেরিকা সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে। ইতিমধ্যেই এই মারণ ভাইরাস বহুজনের প্রাণ কেড়েছে, মহামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে যে দেশ থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছিল সেখানে ফের নতুন করে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় উদ্বেগে রয়েছে চিন। জানা গিয়েছে, উপকূলবর্তী শহর কুইংদাওতে ছোটখাটো করোনা সংক্রমণের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তাই চিন সরকারের এখন লক্ষ্য পাঁচদিনের মধ্যে এই শহরের ৯০ লক্ষ বাসিন্দার করোনা টেস্ট করা হবে, যা এই মাসে প্রথম গণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কুইংদাও শহরে ৬ জন আক্রান্ত
এই চিন থেকেই প্রথম ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও মহামারিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ করতে সফল হয়েছে, তবে এখনও বিশ্বের বহু দেশের কাছে এই দেশ নিন্দা ও সমালোচনার পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার কুইংদাওতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন ছ'জন। কুইংদাও মিউনিসিপ্যালের স্বাস্থ্য কমিশন সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে চিনের উত্তর-পূর্ব শহর, যেখানে ৯৪ লক্ষ মানুষের বাস, তা হাসপাতালে পরিণত হবে।

পাঁচদিনে সম্পূর্ণ হবে গণ টেস্ট
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনদিনের মধ্যে পাঁচটি জেলায় ও পাঁচদিনের মধ্যে গোটা শহরে গণ টেস্ট সম্পূর্ণ করা হবে। স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, চিনের ব্যাপক ও দ্রুত টেস্ট করার সক্ষমতা রয়েছে। করোনা কেস নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে কুইংদাওয়ের মেডিক্যাল ইনস্টিউটগুলিতে ভর্তি হওয়া নতুন রোগী ও কর্মী সহ ১৪০,০০০ জনকে পরীক্ষা করা হয়ে গিয়েছে।

জুন মাসে বেজিংয়ে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়
এ বছরের জুন মাসে একটি খাবারের বাজার থেকে ৪০ লক্ষের বেশি মানুষের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়ার পর বেজিংয়ে গণ পরীক্ষা করা হয়। প্রসঙ্গত, গত বছর শেষের দিকে চিনে মহামারি শুরু হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিতীয় অর্থনীতিকে চুরমার করে দিয়েছিল। তবে এতসব কিছুর পরও চিন ফের ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে।

করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া চালু চিনে
‘গোল্ডেন উইক' ছুটির সময় দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ পর্যটক ঘুরে বেড়িয়েছে, যা চিনকে ফের করোনার দ্বিতীয় প্রকোপের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তবে দ্রুত পরীক্ষা ও লকডাউন এই ভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গকে হ্রাস করছে। অন্যদিকে বেজিং অত্যন্ত দুঃসাহসিকতার সঙ্গে প্রথম দেশে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন চালু করেছে, যেখানে অন্যান্য দেশেরা ভ্যাকসিন ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদিও সেই প্রমাণিত না হওয়া ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মী ও সেনাদের, যাতে দেশবাসীর কাছে চিন নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications