আমেরিকায় ভিসা বাতিল হওয়া পড়ুয়াদের ৫০ শতাংশই ভারতীয়! সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States) নানান কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনের জেরে গত মাসে ৩২৭ জন বিদেশি পড়ুয়ার (Foreign student) ভিসা খারিজ করছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের 'রাষ্ট্রদোহী' তকমাও দিয়েছে মার্কিন সরকার। ফলে তাঁরা আর কখনও আমেরিকায় (America) যেতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয়রা সবচেয়ে বড় দল হওয়ায়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে প্রভাবিতদের বেশিরভাগই ভারতীয়। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
'আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ লিখেছেন, "ভিসা বাতিলের কারণ পরিষ্কার নয়, পদ্ধতিও অস্বচ্ছ। তাই এটি ভারতীয়দের কাছে উদ্বেগের সঙ্গে আশঙ্কারও কারণ।" এই ঘটনায় মোদি সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। চুপ করে বসে থাকার সময় নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এ বিষয় নিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্ক রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করবেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা। তবে শুধু ভারতীয় ছাত্র ছাত্রীরাই নন, তার মধ্যে ১৪ শতাংশ চিনের পড়ুয়ারাও রয়েছেন। ভিসা বাতিল হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, বাংলাদেশের ছাত্র ছাত্রীদেরও।
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ওপেন ডোরস রিপোর্ট অনুসারে, ভারত ৩.৩ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ২৩% বেশি। চিন ছিল দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় দেশ, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২.৮ লক্ষ। যা আগের বছরের তুলনায় ৪% সামান্য হ্রাস পেয়েছে। তথ্যপ্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আগ্রহী ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
তবে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপর কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও, কয়েকশ শিক্ষার্থী তাদের আইনি পদক্ষেপের সমাপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে মার্কিন জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেছে। বেশ কয়েকটি আদালত 'অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ' দিয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের বিষয়টি আমি জেনেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমাদের দূতাবাস ও কনসুলেটগুলি ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানের জন্য যথা সম্ভব চেষ্টা করছি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ করার পর ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অধীনে এক বছরের জন্য কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের অনুমতি পায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিত ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। ওপেন ডোরস রিপোর্ট অনুসারে, পড়াশোনা শেষ করার পরে ওপিটি করা ৯৭,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী ভারতের, যেখানে ওপিটি করা চিনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬১,০০০।
এআইএলএ-এর নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ৫০% ওপিটিতে ছিল। "এই ব্যক্তিরা তাদের স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফরমেশন সিস্টেম (SEVIS) রেকর্ড বাতিল হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। যারা ইতিমধ্যে স্নাতক হয়েছেন এবং ওপিটিতে নিযুক্ত আছেন, তাদের জন্য স্ট্যাটাস পুনঃস্থাপনের পথটি বর্তমানে যারা শিক্ষার্থী তাদের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন এবং অন্ধকারময়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই সিদ্ধান্তের ফলে উদ্বিগ্ন ভারতীয় পড়ুয়ারা ও তাঁদের অভিভাবকরা। ইতিমধ্যেই অভিভাবকরা সন্তানদের সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসন নিয়ে কোনও রকম পোস্ট করতে যাতে না করা হয়, সেবিষয়ে অভিভাবকরা নিশ্চিত করছে। এমনকি এই ধরনের পোস্টে কোনওরকম মন্তব্য বা লাইকও এড়িয়ে যেতে বলছেন অভিভাবকরা।












Click it and Unblock the Notifications