Hottest 2024: সর্বকালের সবচেয়ে উষ্ণ বছর ২০২৪, রেকর্ড ভাঙবে ২০২৫? বিজ্ঞানীরা যা বলছেন শিউরে ওঠার মতো
Hottest 2024: পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল ২০২৪ সাল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্লাইমেট সার্ভিস সম্প্রতি তাদের বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংক্রান্ত রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করেছে। ১৮৫০ ও ১৯০০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে উষ্ণায়ন সীমা ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসও অতিক্রম করে গিয়েছে ২০২৪ সাল। এর আগে ২০২৩ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। ২০২৫ সালে কী অপেক্ষা করছে, তাই এখন দেখার।
২০১৫ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক জলবায়ু কনফারেন্সে বিষ্ণ উষ্ণায়ন (Global Warming) নিয়ে আলোচনায় একত্রিত হয়েছিল বিশ্বের সিংহভাগ দেশ। ১৯৬ জন রাষ্ট্রনেতা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিষয়ে সহমত হন। ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Temperature) বৃদ্ধি করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয় দেশগুলি। একইসঙ্গে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে উষ্ণায়ন সীমা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু বর্তমানে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উষ্ণায়ন সীমাও অতিক্রম করে যাচ্ছে দেশগুলি। কাজেই ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে। মাত্র ৯ বছরের মধ্যেই ২০২৪ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াল পেরিয়ে গিয়েছে।
যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর সামান্থা বারগেসের দাবি, প্যারিস চুক্তি হয়েছিল দশকের হিসেব ধরে। এক একেকটি বছরের হিসেব ধরে নয়। কিন্তু বিশ্বের তাপমাত্রা যেদিকে এগোচ্ছে তাতে করে বিপদ ঘনিয়ে আসতে বেশিদিন বাকি নেই বলেই জানাচ্ছেন তিনি।
সামান্থার কথায়, বায়ুমণ্ডল যত উষ্ণ হবে, ততই প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে। যার জেরে আমজনতা তো বটেই, বাস্তুতন্ত্রেওও কুপ্রভাব নেমে আসবে। বিগত এক দশকের হিসেব ধরলে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা ১.৩ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার জেরে ইতিমধ্যেই বিশ্বের নানা প্রান্তে কুপ্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২৪ সালেই তেমনটা দেখা গিয়েছে।
ব্রাজিলের বৃষ্টি অরণ্যে দাবানলের ঘটনা থেকে শুরু করে সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও স্পেনে ভয়াবহ বন্যার ছবি উঠে এসেছে বিগত বছরে। ইউরোপ ও পশ্চিম আফ্রিকায় তাপপ্রবাহ থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপিনসে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিধ্বংসী প্রভাব দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৪ সালে গোটা বিশ্বে কম করে ২৬টি এমন চরম বিপর্যয়ের ঘটনা সামনে এসেছে, যেগুলি তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামিদিনে আরও বাড়তে পারে। ২০২৫ এ তাহলে কী অপেক্ষা করছে আমাদের জন্যে?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ রয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ৯০ শতাংশ তাপই সমুদ্র শোষণ করে নেয়। ২০২৪ সালে এল নিনোর প্রভাব শেষ হয়ে গেলেও বিগত বছরগুলির তুলনায় বেশি তাপমাত্রা ধরে রেখেছে পৃথিবীর তিন ভাগ জল। যার জেরে আগামিদিনে তাপমাত্রায় প্রভাব পড়ছে। রেকর্ড ভাঙা গরম না হলেও পারদ বেশ চড়াই থাকবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।












Click it and Unblock the Notifications