তেজস্বী-চিরাগের তারুণ্যে ফিকে পড়েছে 'ব্র্যান্ড নীতীশ', মুখ্যমন্ত্রীর 'অবসর' নিয়ে তৈরি জল্পনা
বিগত ১৫ বছরে আহেন কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয়নি নীতীশ কুমারকে। একদিকে যখন এবছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লোক জনশক্তি পার্টি। সেখানে লালুপুত্র তেজস্বী যাদবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাও যেন নীতীশের মাথায় চিন্তার রেখা এঁকে দিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই উৎপন্ন হয়েছে রাজনীতি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অবসরের জল্পনা।

চিরাগ পাসোয়ানের 'বিহার ফার্স্ট, বিহারি ফার্স্ট'
সম্প্রতি, চিরাগ পাসোয়ান 'বিহার ফার্স্ট, বিহারি ফার্স্ট'-এর আহ্বান জানান৷ পাশাপাশি, আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে তাঁদের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে এসবই তিনি করেছেন বাবার বিয়োগের পরিস্থিতিতে। যার ফলে দলিতদের একটা বড় অংশ জেডিইউ ছেড়ে এলজেপির দিকে ঝুঁকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তেজস্বী বনাম নীতীশের দ্বন্দ্ব চরমে
এদিকে তেজস্বী বনাম নীতীশের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। ভোটের নির্ঘণ্ট বাজতেই তেজস্বীর বিরুদ্ধে পুলিশি মামলার ঘটনা সামনে এসেছিল। তবে সেসবকে পিছনে ফেলে লালুপুত্র ভোটের প্রচারে ঝড় তুলেছেন। এক দিনে ১২টি জনসভা করে যেমন সাড়া ফেলেছেন, তেমনই তাঁর জনসভায় সমাগম দেখে কালঘাম ছুটেছে বিজেপি-জেডিইউর।

নীতীশ কুমারের অবসর
এদিকে বিহারে এনডিএ-র মুখ নীতীশ কুমার। সেই ক্ষেত্রে নীতীশ যদি নির্বাচনে হেরে যান তাহলে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতি থাকবেন বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বিহারের আইনসভা থেকে মনোনীত সদস্য নীতীশ। তাঁর এই মনোনয়নের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সেই ক্ষেত্রে তারপরই রাজনীতিকে বিদায় জানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নীতীশের রাজনৈতিক দর কমেছে
নীতীশের রাজনৈতিক দর যে কতটা নিচে নেমেছে, তার প্রমাণ এটা থেকেই পাওয়া যাচ্ছে যে জেডিইউ প্রধান এই প্রথমবার বিজেপির উপর নির্ভর করে আছেন নির্বাচনী বৈতরণী পার করার জন্য। অবশ্য সেই নির্ভরতা এবং ভরসার আস্তরণেও চিড় ধরিয়েছেন এলজেপি প্রধান চিরাগ পাসোয়ান। যিনি ক্রমাগত নীতীশকে আক্রমণ করে বিজেপি বন্দনা করে যাচ্ছেন।

ব্র্যান্ড মোদীর উপর নির্ভরশীল নীতীশ কুমার
এককালে এই নীতীশ কুমারই মোদী বিরোধিতায় এনডিএ ছেড়েছিলেন। তবে বর্তমানে জন সমর্থন বজায় রাখতে সেই ব্র্যান্ড মোদীর শরণাপন্ন নীতীশ। আসন্ন নির্বাচনের জন্য বিহারে ১২টি জনসভা করবেন মোদী। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকবেন নীতীশ কুমার। এর জেরে নিজের 'দাম' কমলেও নীতীশের এখন মূল লক্ষ্য নির্বাচন জেতা।

তারুণ্যের বাণে আক্রান্ত নীতীশ
নীতীশ যে তারুণ্যের বাণে আক্রান্ত, তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া লালুপ্রসাদের ভূতও যেন তাঁকে তাড়া করছে। লালুর ১৫ বছরের 'জঙ্গলরাজ'-এর বিরুদ্ধে সরব হয়েই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নীতীশ। তবে নিজের ১৫ বছর শাসনকালের পর নীতীশের সেই পুরোনো ক্যারিশমা যেন ফিকে হয়ে পড়েছে। তার উপর ফোড়ন হিসাবে নির্বাচনী ময়দানে উপস্থিত হয়েছে তরুণ ব্রিগেড।












Click it and Unblock the Notifications