প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ! রাজস্থান থেকে গ্রেফতার 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'গ্যাংয়ের ছয় সদস্য
যোগী রাজ্যের নয়ডা পুলিশের কড়া পদক্ষেপ। নয়ডা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ রাজস্থান থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট গ্যাংয়ের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এরা মাদক চোরাচালান, অবৈদ পাসপোর্ট তৈরি করা, মানি লন্ডারিং-সহ বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজে জডডিত বলে অভিযোগ পুলিশের।
এর সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, নয়ডা পুলিশের এক আধিকারিক বলেছেন, এই গ্যাং পঞ্জাব, রাজস্থান,মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কেরল-সহ কয়েকটি রাজ্যে কাজ করত। তাদের বিরুদ্ধে সত্তরের বেশি অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের বয়ান
নয়ডা পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, এইসব সাইবার অপরাধীদের রাজস্থানের সিকার জেলার লোসাল এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। এইসব অপরাধীরা নিরাপরাধ লোকদের ডিজিটালি গ্রেফতার করে তাদের ভয় দেখা যে, তারা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত। এব্যাপারে উত্তর প্রদেশে তদন্ত চালানো ছাড়াও, বিভিন্ন রাজ্য সরকারকেও জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তরা একই রাজ্যের বাসিন্দা
পুলিশের তরপে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা হল কিষাণ, লখন, মহেন্দ্র, সঞ্জয় শর্মা, প্রমীণ জাগিন্দ এবং শম্ভু দয়াল. এরা সবাই রাজস্থানের বাসিন্দা হলেও বিভিন্ন রাজ্যে অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন রাজ্যে তাদের একটি বিস্তৃত সাইবার অপরাধ নেটওয়ার্ক রয়েছে।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট কী?
এক্ষেত্রে সাইবার অপরাধীরা প্রতারণার জন্য তাদের শিকারকে বাড়িতে বন্দি করে রাখে। অভিযুক্তরা অডিও কিংবা ভিডিও কল করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। এরা প্রায়ই এআই জেনারেটেড ভয়েস বা ভিডিও ব্যবহার করে নিজেদেরকে সরকারি আধিকারিক হিসেবে দাবি করে।
প্রতারণা করে টাকা হাতানোর কারবার
পুলিশ জানিয়েছে, এই দলটি গত ৯-১০ মে এক ব্যক্তির থেকে প্রতারণা করে ৫২.৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা বলে, ওই ব্যক্তি বিদেশে অবৈধ ওষুধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তার নামে অবৈধ পাাসপোর্টও রয়েছে। এইসব প্রতারণাকারীরা নিজেদের মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ কিংবা ইডির আধিকারিক হিসেবে দাবি করে। তারা দাবি করে অর্থ পাচারের তদন্ত করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে মামলা চলছে মুম্বই হাইকোর্টে।
এই পদ্ধতিতে টাকা হাতাতে তৃতীয় পক্ষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ কল ছাড়াও স্কাইপেও কল করা হয়। ভুক্তভোগীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে জাল আইডিও পাঠানো হয়। অভিযুক্তরা ব্যাক গ্রাউন্ডে পুলিশের সাইরেন বাজায় এবং ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে বিষয়টিকে আসল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে।
অভিযুক্তরা প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্টে ভুক্তভোগীদের টাকা স্থানান্তর করে এবং পরে তা নগদে তুলে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।












Click it and Unblock the Notifications