দেব দীপাবলিতে লাখো প্রদীপের আলোয় মুড়বে বারাণসী, উপস্থিত থাকবেন যোগী
মহা সমারোহের সঙ্গে দেব দীপাবলি পালিত হবে বারাণসীতে। বারাণসীর গঙ্গার ঘাটে জ্বালানো হবে লাখো লাখো প্রদীপ। গঙ্গা দেবী ও দেবতাদের উদ্দেশ্যেই এই ঘাটে লাখো লাখো প্রদীপ জ্বলবে। গঙ্গার ঘাটে জ্বলবে ১২ লাখেরও বেশি প্রদীপ। এই বিশেষ দিনে এখানে উপস্থিত থাকবেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী নমো ঘাটে প্রথম প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করবেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন ৭০ টি দেশের রাষ্ট্রদূত-সহ ১৫০ জন বিদেশি প্রতিনিধিরাও। তারাও এই দীপোৎসব দেখতে আসবেন। যোগী বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাবেন। ক্রুজে চড়ে গঙ্গার ঘাটগুলি পরিদর্শন করবেন যোগী আদিত্যনাথ।

প্রত্যেক বছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে দেব দীপাবলি পালিত হয়। বিশ্বাস এদিন ভগবান বিষ্ণু মৎস্য অবতার গ্রহণ করে পৃথিবীকে প্রলয় থেকে রক্ষা করেছিলেন। আবার একই সঙ্গে এও বিশ্বাস করা হয় এই দিনে ভগবান শিব ত্রিপুরাসুর নামে অসুরকে বধ করে দেবলোককে রক্ষা করেছিলেন তার অত্যাচার থেকে। আর এই কারণেই ভক্তরা পালন করেন এই বিশেষ উৎসব।
জানা গিয়েছে সন্ধ্যে ৬ টা ১৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দশাশ্বমেধ ঘাটে পৌঁছে গঙ্গার ঘাটের বিশেষ আরতি দেখবেন তিনি। বিশ্বনাথ ধামের গঙ্গার ঘাট পরিদর্শনের পর রাত সাড়ে আটটায় নমো ঘাটে পোঁছাবে, আর সেখান থেকেই তিনি লখনউয়ে চলে যাবেন।
এই বিশেষ দিনের জন্য গোবর দিয়ে বানানো হয়েছে এক লক্ষ প্রদীপ। তবে এখানেই শেষ নয়, পাশাপাশি, বিশ্বনাথধামের গঙ্গাদ্বার ও চেতসিং ঘাট আলোকিত হবে আতসবাজির রোশনাইয়ে। আর এখান থেকে লেজার লাইট শো ও লাইট অ্য়ান্ড সাউন্ডের আয়োজন করা হচ্ছে। পুরাণের বিভিন্ন কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হবে লাইটের মাধ্যমে। আর এই বিশেষ দৃশ্য দেখতে আসবেন আট থেকে দশ লক্ষ ভক্ত। আর এই বিশেষ দিনের জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
চলতি বছর যোগী সরকারের অনুপ্রেরণায় ১২ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানো হবে জানা গিয়েছে। গঙ্গার ঘাটে, পুকুর, হ্রদেও প্রদীপ জ্বালানো হবে, মোট প্রদীপের সংখ্যা দাঁড়াবে ২১ লক্ষের বেশি। এই বিশেষ দৃশ্য দেখতে আসবেন অনেক বিদেশি পর্যটকেরাও, উপস্থিত থাকেবন বারাণসী বাসিন্দারাও।
চলতি বছর দেব দীপাবলিতে সেজে উঠেছে বারাণসী। রঙ্গোলি থেকে নানান আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে বারাণসীর ঘাট। কঠোর নিরাপ্ততায় মোড়া থাকে ঘাটগুলি। থাকবে ড্রোনের ব্যবস্থাও। জেলার সীমান্তে থাকবে কড়া নজরদারি। থাকবে ডাক্তারি পরিষেবাও, থাকবে লাইফ জ্যাকেটেরও। ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সহ ভক্তদের বিনামূল্যে চিকিত্সার জন্য বিভিন্ন ঘাটে উপস্থিত থাকবে। গঙ্গার ঘাটে থাকবে জল পুলিশ মোতায়েনও।












Click it and Unblock the Notifications