উত্তর প্রদেশে পুরভোটের দ্বিতীয় পর্বে ঝোড়ো প্রচার! উন্নয়ন নিয়ে পরিবারবাদী ও তামাঞ্চবাদীদের নিশানা যোগীর
উত্তর প্রদেশে পুরভোটের দ্বিতীয় পর্বের প্রচারে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। চলছে ঝোড়ো প্রচার। তারই মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে বিরোধীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পরিবারবাদী ও তামাঞ্চবাদীরা রাজ্যের উন্নয়নে খুশি নয়।
যোগী আদিত্যনাথ শুক্রবার হাপুর, মিরাট, বুলন্দশহর এবং গাজিয়াবাজে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনের প্রচার চালিয়েছেন। গাজিয়াবাজে তিনি বলেছেন, আগের সরকার হজ ভবন এবং কবরস্থান তৈরিতে অর্থ ব্যয় করেছিল। আর তার সরকার গাজিয়াবাজে মানস সরোবর ভবন তৈরি করেছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছেন, গাজিয়াবাদে পূর্বাচল ও উত্তরাখণ্ড ভবনের তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি ভাষণে বর্তমান গাজিয়াবাজের অবস্থাও তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন এখন গাজিয়াবাদের অবস্থা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছেন, ২০১৭ সালের আগেকার গাজিয়াবাদ ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাই জানেন। মেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পেত। মহিলারা বাজারে যেতে ভয় পেতেন। শহরবাসীরা অপরাধীদের ভয়ে থাকতেন। ব্যবসায়ীরা তোলাবাজির আতঙ্কে থাকতেন।
উত্তর প্রদেশে অরাজকতা ছড়ানোর পিছনে মুখ্যমন্ত্রী সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজপার্টিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, বাড়ি ছেড়ে বাইরে কেউ বেরোলে নিরাপদে ফিরে আসবে কিনা, সেই প্রশ্নও থাকতো সাধারণ মানুষের মনে। এখন গাজিয়াবাদ স্বচ্ছ্ব ভারত মিশনে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
প্রচারে যোগী আদিত্যনাথ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তুষ্টিকরণের অভিযোগ করেছেন। তিনি হাপুরে প্রচারে গিয়ে জেওয়ারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কীভাবে উন্নয়ন এবং স্থানীয় আর্থনীতিতে সাহায্য করবে, সেই কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রথং দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেন দিল্লিকে হাপুর ও মিরাট হয়ে গাজিয়াবাদের সঙ্গে যুক্ত করবে।
এলাকার উন্নয়নে এক্সপ্রেসওয়ের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হাপুর হয়ে মিরাটকে প্রয়াগরাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি উত্তর প্রদেশকে নতুন পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিরাটে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কুখ্যাত সোতিগঞ্জ বাজারের কথা উল্লেখ করেন। এই সোতিগঞ্জ বাজারে চুরি যাওয়া গাড়ি ভেঙে, যন্ত্রাংশ বিক্রি করা হত। তিনি বলেন বিরোধীরা সোতিগঞ্জ ও মিরাটের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তা পুনরুদ্ধার করেছে।
মিরাটে প্রচারে যোগী স্মরণ করিয়ে দেন ১৮৫৭ সালের ১০ মে সেখানে দেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ১১মের নির্বাচনে সেখানেই সুশাসন ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে জনগণকে ব্যাপকভাবে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান করেন।
বুলন্দশহরের প্রচারে গিয়ে যোগী সেখানে দাঙ্গার জন্য এসপি, বিএসপি এবং আরএলডিকে অভিযুক্ত করেছেন। এছাড়াও তিনি এসপি-আরএলডি জোটকে নৈরাজ্যবাদী এবং সুবিধাবাদী হিসেবেও নিশানা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications