মাফিয়া-অপরাধী-গুণ্ডা! উত্তর প্রদেশে পুরভোটের প্রচারেই ২০২৪-এর ন্যারেটিভ সেট করছেন যোগী
উত্তর প্রদেশে পুরভোটের প্রচারে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তথা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে। এই ভোটেই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ন্যারেটিভ ঠিক করে দিচ্ছেন যোগী। প্রসঙ্গত ৪ ও ১১ মে উত্তর প্রদেশে দুই দফায় পুর নির্বাচন করা হবে।
যোগী আদিত্যনাথ সাত দিনের মধ্যে ১৯ টি সভা করেছেন পুর নির্বাচনের জন্য। সেখানে তিনি মাফিয়া, অপরাধী, দাঙ্গা, গুণ্ডা, তামঞ্চ, পরিচ্ছন্নতা শব্দগুলি বারে বারে উল্লেখ করেছেন। আদিত্যনাথ অপরাধের হার কমাতে এবং মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ক্র্যাক ডাউন করার ক্ষেত্রে বিজেপি সরকারের কৃতিত্ব প্রচার করছেন বিভিন্ন সভায়। পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টিকেও নিশানা করছেন।

যোগীর এইসব সমাবেশগুলিকে তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে বলা হচ্ছে, কেননা এই সময়ে গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদ ও তার ভাইকে গুলি করে হত্যা এবং আরেক মাফিয়া থেকে সাংসদ হওয়া মুখতার আনসারিকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
২৪ এপ্রিল সাহারানপুর, সামলি ও আমরোহাতে জনসভায় তিনি অপরাধমূলক কর্মরাণ্ডরোধে সরকারের প্রচেষ্টার কথা বলেছেন। সামলিতে তিনি বলেছেন, সরকার শুধু মাফিয়া ও অপরাধীদের বিরুদ্ধেই নয়, অন্য অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরোহার তিনি স্থানীয় ঢোলের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তারা ঢোল বাজিয়ে মাফিয়াদের সরিয়ে দিয়েছে।
যোগী সাহারানপুরে প্রচারে গিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, রাজ্য কারফিউ এবং দাঙ্গা মুক্ত। উন্নাও হোক কিংবা রায়বরেলি, আগ্রা হোক কিংবা গোরক্ষপুর, সব জায়গাতেই প্রচারে তিনি নিজের বুলজোডার বাবা ইমেজ অক্ষত রাখতে চেয়েছেন। রাজ্য থেকে অপরাধী এবং দুর্নীতি দূর করতে সরকারের পদক্ষেপের কথা বলেছেন।

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে উত্তর প্রদেশ বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় মাফিয়া ও অপরাধীদের প্রসঙ্গ তুলেছে। তারা আতিক আহমেদ এবং মুখতার আনসারির মতো অপরাধীদের ছবি দেখিয়ে বলছে, অপরাধীরা চায় সমাজবাদী পার্টি তথা অখিলেশ যাদবের প্রত্যাবর্তন।
যদিও প্রচারে এর পাল্টা দিয়েছেন অখিলেশ যাদব। তিনি গোরক্ষপুরের সভায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যের মানুষ অপরাধমূলক ঘটনায় বিরক্ত। পাশাপাশি রাজ্যে চুরি ও ধর্ষণের মতো ঘটনাও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন বিজেপি গত ৬ বছরে আবর্জনা অপসারণে ব্যর্থ।
এদিকে বিজেপি আলিগড়ের ৯০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯ জন মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দিয়ে বিরোধীদের কার্যত চমকে দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে বিজেপির কৌশলগত পদক্ষেপ বলেও বর্ণনা করেছেন। প্রসঙ্গত ২০১৭-র নির্বাচনে বিজেপি বিএসপির কাছে আলিগড়ের মেয়র পদ হারিয়েছিল। এবার আলিগড়ের নির্বাচন হতে চলেছে ১১ মে।
৪ ও ১১ মে উত্তর প্রদেশের ১৭ টি কর্পোরেশন, ১৯৯ টি পুরসভা এবং ৪৩৯ টি নগর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি নির্বাচন। এই মুহূর্তে উত্তর প্রদেশে শহুরে সংস্থার সংখ্যা ১০৭ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫৩ থেকে ৭৬০-এ পৌঁছেছে। দুদিন নির্বাচনের পরে ভোট গণনার দিন ধার্য হয়েছে ১৩ মে। সেদিন কর্নাটক বিধানসভারও ভোট গণনা।












Click it and Unblock the Notifications