যোগীর কামাল ‘অপারেশন মমতা’য়! থারু মহিলারা ‘প্রাণ’ পেয়েছেন ৪০ বছর পর
যোগীর কামাল ‘অপারেশন মমতা’য়! থারু মহিলারা ‘প্রাণ’ পেয়েছেন ৪০ বছর পর
চার দশক পর প্রাণ ফিরে পেয়েছেন যোগী-রাজ্যের থারু মহিলারা। উত্তর প্রদেশের ইন্দো-নেপাল সীমান্তের তেরাই অঞ্চলে বাস তাঁদের। থারু গোত্রের মহিলারা এতদিন ছিলেন বঞ্চিতের তালিকায়। তাঁদের নতুন জীবন দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। মমতা নামেই আস্থার সন্ধান দিয়েছেন তিনি। 'অপারেশন মমতা'য়! কামাল করে দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।

৪০ বছর পর যোগীর পদক্ষেপে এখন পরিস্থিতি বদল
বিদ্যুৎ এবং জলের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলি থেকেও বঞ্চিত ছিলেন থারু মহিলারা। কিন্তু ৪০ বছর পর যোগীর পদক্ষেপে এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। এখন আর তাঁদের বাচ্চাদের প্রসবের জন্য অনেক দূরের জায়গায় যেতে হয় না। যোগী আদিত্যনাথ সরকার দ্বারা চালিত 'অপারেশন মমতা'য় থারু অধ্যুষিত গ্রামগুলি আবার জেগে উঠেছে।

‘অপারেশন মমতা’ প্রকল্পের আওতায় ছয়টি এএনএম উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র
যোগী আদিত্যনাথ 'অপারেশন মমতা' প্রকল্পের আওতায় ছয়টি এএনএম উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পুনর্জীবিত করেছেন। চন্দন চৌকি, গৌরিফন্ত, নাজোটা, ছেদিয়া পশ্চিম, বাঁকটি ও ধুসকিয়ায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে পুরোদস্তুর ডেলিভারি সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে এবং ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৭৫০ ডেলিভারি হয়েছে।

‘অপারেশন মমতা’য় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সোলার প্যানেল
সরকারি মুখপাত্রের মতে, এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে দিন ও রাতের সময় এএনএম দ্বারা যথাক্রমে ৪৬৪ এবং ২৮৬টি ডেলিভারি হয়েছে। 'অপারেশন মমতা'র আগে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি প্রায়শই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হত। রাজ্য সরকার এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে।

‘অপারেশন মমতা’র পরিকল্পনা যোগীরাজ্যে
২০২০ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে 'অপারেশন মমতা'র পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মাত্র এক বছরে এটি ডেলিভারি, টিকাদান এবং অন্যান্য পরিচালনার জন্য সর্বোত্তম পরিষেবা প্রদান করছে। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির রূপান্তর হয়েছে। কোভিড মহামারী চলাকালীন এলাকার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সংক্রদের জন্য ওষুধের কিটগুলিও সরবরাহ করা হয়েছে এবং এএনএম দ্বারা ২৪ ঘন্টা প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

৫০,০০০ জন মায়ের জন্য উন্নততর পরিষেবা
প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা অরবিন্দ সিং বলেন, থারু গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং থারো উপজাতির মহিলাদের ইন্দোতে প্রায় ৫০,০০০ জন লোকের জন্য উন্নততর প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি ও পরবর্তী সেবা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ছয়টি সাব-হেলথ সেন্টারে এএনএম নিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দিয়েছে।

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ৪৮টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে এএনএমদের আবাসনের সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও দু'জন কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে আসা এবং যাওয়ার রাস্তাগুলি সংস্কার করা হয়েছে। রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। শীঘ্রই রানিনগর ও কিরাতপুরসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ৪৮টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দূরের ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী লোকদের আরও উন্নত ও সময়োচিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ স্থানীয়দের
থারু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে কাজে যোগ দিতে এগিয়ে এসেছেন। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিটিই সাত থেকে আটটি গ্রামের মানুষকে পরিষেবা দেয়। পলিয়া এলাকার ছয়টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইতিমধ্যে কার্যক্রম চলছে, বাকিগুলি পুনর্জীবিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।












Click it and Unblock the Notifications