উত্তরপ্রদেশ জুড়ে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব! উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন যোগী আদিত্যনাথ
উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন এক দিশা দেখাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ! রাস্তা থেকে শুরু করে একাধিক ক্ষেত্রে কার্যত উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। কৃষি ক্ষেত্রে যোগী আমলে কতটা উন্নয়ন হয়েছে সম্প্রতি তাঁরই ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একই সঙ্গে বিরোধীদের ব্যর্থতাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি।
বিধানসভায় বাজেটের উপর আলোচনা চলাকালীন সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে সরাসরি আক্রমণ করেন যোগী।

অখিলেশ সরকারকে বার্তা যোগীর
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অখিলেশ একটা সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র কি সেটাই জানতেন না। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫-১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরপ্রদেশে ২০টি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র তৈরি করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সমাজবাদী পার্টি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বলে দাবি। তবে যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কৃষকরা ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করতেন বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য পর্যন্ত পেতেন না কৃষকরা।

কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের হার বেড়েছে
এমনকি মান্ডি পরিষদের বাইরে সবজি বিক্রি করাটাও নিষিদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ সাল থেকে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের হার বেড়েছে অনেকটাই। ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে একধাক্কায় হয়েছে ১৮.২ শতাংশ। নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সাল থেকে 'প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান' দিতে শুরু করেছে। আর সেই যোজনাতে উত্তরপ্রদেশের ২.৬০ কোটি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে মোট ৫১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। যা কৃষকদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জিডিপি ২৫ শতাংশ আসে কৃষি থেকে
যোগী আরও উল্লেখ করেন, উত্তরপ্রদেশে জিডিপি ২৫ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। এই বিষয়ে একেবারে হিসাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোটা দেশের মোট চাষযোগ্য জমি ১১ শতাংশ আছে শুধু উত্তরপ্রদেশেই। দেশের মোট উৎপন্ন খাদ্যদ্রব্যের অনেকটাই উত্তরপ্রদেশ থেকে জোগান দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন। অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রে গরুর কতটা প্রয়োজনীয়তা তাও বুঝিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, চাষবাসে রাসায়ানিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াতে ক্যান্সার, লিভার কিংবা কিডনিতে রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আর তাই সার্বিক উন্নয়নের কথা ভেবে কৃষিক্ষেত্রে গরুর প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝাচ্ছে সরকার।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হচ্ছে চাষবাস
যোগী জানিয়েছেন, বর্তমানে গঙ্গা তীরবর্তী ২৭ টি জেলাতে ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষবাস করা হচ্ছে। আর এজন্যে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত ছয় বছরে কোন খাদ্যদ্রব্য কত উৎপাদন হয়েছে সেই তথ্যও বিধানসভাতে তুলে ধরেছেন যোগী আদিত্যনাথ।












Click it and Unblock the Notifications