চোর-পুলিশ খেলা শেষ, গ্রেফতার বুলন্দশহরে পুলিশ অফিসার খুনের মূল অভিযুক্ত
চোর-পুলিশের খেলা শেষ। অবশেষে পুলিশের জালে বুলন্দশহর হিংসায় পুলিশ অফিসার খুনে অভিযুক্ত যোগেশ রাজ।
চোর-পুলিশের খেলা শেষ। অবশেষে পুলিশের জালে বুলন্দশহর হিংসায় পুলিশ অফিসার খুনে অভিযুক্ত যোগেশ রাজ। বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বজরং দলের স্থানীয় নেতা যোগেশের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়েছিল। ডিসেম্বরে বুলন্দশহরে হিংসায় খুন হন পুলিশ ইন্সপেক্টর সুবোধ সিং। প্রথমে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে মাথায় গুলি করা হয়েছিল।

যোগেশ রাজ বুলন্দশহরের বজরং দলের নেতা। অভিযোগ, একটি মাঠে গরুর পচা-গলা দেহাংশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে বুলন্দশহরে হিন্দুত্ববাদীরা যে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তার নেতৃত্বে দিয়েছিল যোগশ। এমনকী, পুলিশ ইন্সপেক্টর সুবোধ সিং-এর উপরে হামলাতেও যোগেশের হাত ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সুবোধ সিং-কে গণপিটুনি এবং গুলি করে মারার ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল যোগেশ। এই হিংসার ঘটনায় সুমিত কুমার নামে এক ছাত্রেরও মত্যু হয়েছিল। যোগেশের খোঁজে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিও চালাচ্ছিল। কিন্তু, খোঁজ মিলছিল না তাঁর। অবশেষে প্রায় ১ মাসের মাথায় পুলিশের জালে যোগেশ।
২০১৫ সালে বুলন্দশহরে গোমাংস খাওয়ার জন্য পিটিয়ে মারা হয়েছিল আখলাক আহমেদ-কে। এই ঘটনায় আখলাকের ছেলে গুরুতর জখম হয়েছিল। আখলাকের ঘটনার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সুবোধ সিং। তিনি আখলাকের খুনের ঘটনায় কড়া তদন্ত করেছিলেন যার মুখ পোড়ে বজরং দলের। সুবোধ সিং-এর খুনের ঘটনার সঙ্গে আখলাকের খুনের তদন্তের কোনও যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী উন্মত্ত জনতার মধ্যে থেকে একজন কুঁড়োল নিয়ে ইন্সপেক্টর সুবোধ সিং-এর উপরে চড়াও হয়েছিল। কুঁড়োল দিয়ে সমানে আঘাত করা হয় সুবোধ সিং-কে। পুলিশের গাড়ির চালক সুবোধ সিং-কে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু, যোগেশ এবং তার সঙ্গীরা গাড়়ি ঘিরে ফেলে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। আতঙ্কে গাড়ির চালক পালিয়ে যান। উন্মত্ত জনতা এরপর সুবোধ সিং থেকে গাড়ি থেকে নামিয়েই গুলি করে। গাড়ির পিছন দরজার গা-ঘেঁষেই পড়েছিল সুবোধ সিং-এর দেহ। পুলিশের দাবি যে যুবক কুঁড়োল দিয়ে সুবোধ সিং-কে কোপায় তাকে ১ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ঘাতক কুঁড়োলটি। অন্যদিকে যে যুবক সুবোধ সিং-এর উপরে গুলি চালিয়েছিল তাকেও পুলিশ ডিসেম্বরের ২৭ তারিখে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জীতেন্দ্র মালিক নামে এক সেনা কর্মীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনায় আবার বিতর্ক বাড়িয়েছেন বিজেপি-র এক বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন, সুবোধ সিং নিজেই আত্মঘাতি হয়েছেন। এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন সুবোধ সিং-এর ছেলে শেরি সিং। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন, সুবোধ সিং-কে যে অন্তত আট ফিট দূর থেকে গুলি করা হয়েছিল তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রমাণিত। এমনকী, শেরি সিং জানিয়েছিলেন, যোগেশ ভিডিও প্রকাশ করে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন তাহলে তার উচিত পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা। এদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এই ঘটনায় তদন্তকারী সিট-এর কাজে নজরদারির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।












Click it and Unblock the Notifications