Year Ender 2022: দেশের রাজনীতিতে বিদায়ী বছরে কয়েকজনের নাম বারে বারে এসেছে! শীর্ষে থাকা রাজনীতিকরা একনজরে
বছরের শেষ লগ্নে চিন-সহ বিভিন্ন দেশের কোভিড সংক্রমণ ভয় ধরিয়েছে ভারতেও। তবে বিদায়ী বছরের অধিকাংশ সংয় কেটেছে স্বাভাবিকভাবে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ রাজ্যে বিজেপি জিতেছে। তবে তার মধ্যে
বছরের শেষ লগ্নে চিন-সহ বিভিন্ন দেশের কোভিড সংক্রমণ ভয় ধরিয়েছে ভারতেও। তবে বিদায়ী বছরের অধিকাংশ সংয় কেটেছে স্বাভাবিকভাবে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ রাজ্যে বিজেপি জিতেছে। তবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মোদী-অমিত শাহের রাজ্য গুজরাত।
আবার পঞ্জাবে ক্ষমতায় এসেছে আপ। হিমাচল প্রদেশে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস। ফলে শুধু বিজেপি কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নন, সারা বছরে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বারে বারে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদী
শুরুটা হয়েছিল ২০১৪ থেকে। তারপর থেকে মোদীর ঢেউ অব্যাহত। এবছরেও তা অব্যাহত ছিল। মোদী ঢেউকে সঙ্গে করেই এবছরে যে সাতটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়, তার মধ্যে উত্তর প্রদেশ ও গুজরাত-সহ ৫টি রাজ্যে জয়ী হয়েছে বিজেপি। দীর্ঘদিন পরে পরপর দুবার কোনও মুখ্যমন্ত্রী উত্তর প্রদেশে ক্ষমতা। যোগী আদিত্যনাথের ক্ষেত্রে যা সম্ভব হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর কারণেই। এবছরের শুৎু দেশের রাজনীতিতেই নয়, বিশ্বের রাজনীতিতেও মোদীর কথা উঠে এসেছে। সিআইএ-র প্রধান নিজের বলেছেন, মোদীর কারণেই রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার নীতিতে পরিবর্তন করেছে।

যোগী আদিত্যনাথ
২০১৭ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে না থাকলেও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিল বিজেপি। আর এবার তিনি শাসকদলের মুখ ছিলেন। বিজেপির পের ক্ষমতায় ফেরা এবং যোগী আদিত্যনাথের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জেরে গেরুয়া শিবির রাজ্যের ৩৫ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছে। যোগী রাজত্বকালে উত্তর প্রদেশে ১৩ টি এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হয়েছে। মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর পরে উত্তর প্রদেশের দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

অমিত শাহ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অমিত শাহ এই বছরে সব প্রতিকূলতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন। ২০২২-এ অমিত শাহ যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তার মধ্যে রয়েছে কাশ্নীরি পণ্ডিতদের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা। নানা হুমকির মধ্যেও তিনি বর্তমানে কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর সফর করেন। পাশাপাশি নিজের রাজ্য গুজরাতেও বিজেপি জয় পেয়েছে।

রাহুল গান্ধী
২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে দলের সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন। তারপরেও তিনি বিজেপির আক্রমণের কেন্দ্রে। সম্প্রতি তিনি কন্যাকুমারী থেকে শুরু হওয়া ভারত জোড়ো যাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৫০ দিনের যাত্রার ১০০ দিনের বেশি অতিক্রান্ত। শনিবার সেই যাত্রা দিল্লিতে প্রবেশ করেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে এই যাত্রা শেষ হবে। ইতিমধ্যেই রঘুরাম রাজন, সুধীন্দ্র কুলকার্নির মতো ব্যক্তিরা ভারত জোড়ো যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই যাত্রায় ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

অশোক গেহলট
শচিন পাইলটের নানা বাধা উপেক্ষা করে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন অশোক গেহলট। গান্ধী পরিবারের চাপ সত্ত্বেও তিনি কংগ্রেস সভাপতির পদে লড়াই করতে অস্বীকার করেন। কেননা তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ কিছুতেই ছাড়তে চাননি। অন্যদিকে দলের মধ্যে তাঁকে বিবিন্ন সমস্যা সমাধানকারীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। তাই তাঁকে দূরে ঠেলে দিতে পারেনি গান্ধী পরিবার।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২০১৩ সালে দিল্লিতে কংগ্রেস সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তার পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপিকেও হারিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি পুর কর্পোরেশনের নির্বাচনে আপ বিজেপিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। অন্যদিকে তারা গুজরাতে ১৩ শতাংশ ভোট ছিনিয়ে নিয়ে দেশের রাজনীতিতে জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে।

নীতীশ কুমার
২০২২ সাল নীতীশ কুমারের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেননা এই বছরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে ফের জোট বদল করেন। বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে তিনি আরজেডির সঙ্গ ধরেছেন। এর ফলে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে গিয়েছে। এছাড়াও নীতীশ কুমার বলেছেন, তিনি সামনের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা
উত্তর-পূর্বের রাজনীতির অন্যতম মুখ বিমন্ত বিশ্বশর্মা। বলা ভাল উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে তিনি গেরুয়া শিবিরের অন্যতম হিন্দুত্ববাদী মুখ। তিনিও অসমে বুলডোজার রাজনীতি শুরু করেছেন এই বছরেই। লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই মুখ্যমন্ত্রী রাহুল গান্ধীকে সাদ্দাম হুসেনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

মনীশ সিসোদিয়া
দিল্লির রাজনীতিতে ২০২২ মনীশ সিসোদিয়ার কাছে ঘটনাবহুল। সরকারের আফগারি নীতিতে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বাসভবনে অভিযান চালায় সিবিআই। পরবর্তী সময়ে দিল্লি পুর কর্পোরেশনের নির্বাচনে আপ জয়লাভ করে। সেখানেও সিসোদিয়ার গুরুত্ব কম নয়।












Click it and Unblock the Notifications