মায়ের টাইটেল ব্যবহারের অধিকার থেকে গর্ভপাতের আইনী স্বীকৃতি, যে ঐতিহাসির রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট
যে ঐতিহাসির রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট
এক বছরে মহিলাদের স্বার্থে একাধিক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনত গর্ভপাতের অধিকার থেকে মায়ের টাইটেল ব্যবহারের অধিকার একাধিক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এক নজরে দেখে নিন সেই ঐতিহািসক রায়গুলি।

বিবাহের সম্পর্কে ধর্ষণ
বিবাহের সম্পর্কে ধর্ষণ। যা নিয়ে দীর্ঘ লড়াই চলেছে। স্বামীও ধর্ষক হতে পারেন এমন একাধিক অভিযোগ থানায় জমা হলেও সেগুলি অপরাধের সামিল বলে মনে করা হত না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালে এই নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রম কোর্ট জানিয়েছে বিবাহের সম্পর্কে ধর্ষণও আইনত দণ্ডনীয়। অর্থাৎ এখন থেকে কোনও স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বাধ্য। এত দিন পর্যন্ত একে কোনও অপরাধ বলেই ধরা হত না।

গর্ভপাতের অধিকার
সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি ঐতিহাসিক রায় হল আইনত গর্ভপাতের অধিকার। ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে যেকোনও নারী গর্ভপাত করতে পারবেন বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তিন বিচারপতির বেঞ্চ ২৯ সেপ্টেম্বর এই ঐতিহাসিক রায় দান করেন। সেই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি জেপি পড়িওয়াল। ২০০৩ সালে গর্ভপাতের আইনে সংশোধনে এই ঐতিহাসিক রায়দান করেছে শীর্ষ আদালত।

মায়ের পদবী ব্যবহারের অধিকার
ভারতে স্বাধারণত সকলে বাবার পদবীই ব্যবহার করে থাকেন। মেয়েদের বিয়ের পর স্বামীর পদবী গ্রহন করতে হয়। এরকম একাধিক নিয়ম রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতিকে। কিন্তু সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তার লালন পালনেও মায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সেই সঙ্গে একা অনেক মা তাঁদের সন্তানকে বড় করে তোলেন। সেক্ষত্রে পদবীর ব্যবহার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় স্কুলে-কলেজে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি কৃষ্ণা মুরারীর বেঞ্চ একটি মামলার প্রেক্ষিতে জানিয়েছে সন্তান কোন পদবী ব্যবহার করবে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মায়েরও রয়েছে।

টু ফিঙ্গার টেট
মহিলা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে এই টু ফিঙ্গার টেট। যার বিরোধিতায় আদালতে মামলা করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট এই টু ফিঙ্গার টেস্টকে খারিজ করে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত এই পরীক্ষায় একেবারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই পরীক্ষার কোনও বিজ্ঞানসম্মত কারণ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে।

বাড়ি তৈরির জন্য টাকা চাওয়া পণ নেওয়ার সামিল
সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে এই বছর। কোনও মেয়ের বাড়ির কাছে যদি বাড়ি তৈরির জন্য টাকা নেওয়া হয় সেটা পণ নেওয়ার সামিল অর্থাৎ পণ নেওয়ার মতই দণ্ডনীয় অপরাধ বলেই বিবেচিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি এএস বোপান্না এই রায় দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications