ফিরে দেখা : ২০১৯-এর শেষে গেরুয়া রঙ আরও ফিকে! সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি
ফিরে দেখা : ১৯-এর শেষে গেরুয়া রঙ আরও ফিকে! সিঁদুরে মেঘ দেখেছে বিজেপি
২০১৯ শেষ হতে আর হাতে গোনা কয়েকদিন। এ বছরেই লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কেন্দ্রে ফের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। তা সত্ত্বেও রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোটে হেরেই চলেছে বিজেপি। যে বিজেপি কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল, ২০১৯-এর শেষে সেই বিজেপির অবস্থান একবার ফিরে দেখা যাক।

মাত্র দেড় বছরে বিজেপির পতন ৭০ থেকে ৩৫-এ
লোকসভায় তিন শতাধিক আসনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, তা সত্ত্বেও মোদী-শাহের কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন সফল হল না। উল্টে বিজেপি হ্রাস পেতে শুরু করেছে ভারতে। কমতে কমতে ৭০ শতাংশ থেকে মাত্র দেড় বছরে বিজেপি নেমে গিয়েছে ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ দেশের ৩৫ শতাংশে শুধু বিজেপির শাসন রয়েছে বর্তমানে।

৬৫ শতাংশ রাজ্যে হয় কংগ্রেস নতুবা অ-বিজেপি সরকার
বর্তমানে দেশের ৬৫ শতাংশ রাজ্যে হয় কংগ্রেস নতুবা অ-বিজেপি সরকার রয়েছে। অর্থাৎ বিজেপির কংগ্রেসমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্নভঙ্গ তো হয়েইছে, বিজেপি ক্রমশ সংখ্যালঘু হতে শুরু করেছে দেশে। তা না হলে ৭০ থেকে কেম মাত্র দেড় বছরে ৩৫-এ নেমে আসে না। তা-ই হয়েছে কংগ্রেসের দৈন্যতা সত্ত্বেও।

২০১৭-য় দেশের মানচিত্রে ছিল গেরুয়ার রঙের ছড়াছড়ি
২০১৪ সালে কংগ্রেসমুক্ত দেশ গড়ার স্লোগান তুলেছিল বিজেপি। সেই দিকে এগিয়েও নিয়ে যাচ্ছিল তারা। ২০১৭ সালের শেষে যে চিত্র সামনে এসেছিল, তাতে ৭০ শতাংশের বেশি রাজ্যে ছিল বিজেপির শাসন। কংগ্রেস তখন কোনওরকমে তিনটি রাজ্যে বাতি জ্বেলে রেখেছে। দেশের প্রায় গোটা মানত্রিটাই গেরুয়া। তারপরই বদল ঘটতে শুরু করে।

২০১৮ সাল থেকেই বিজেপির স্বপ্নভঙ্গের সূচনা
২০১৮ সাল থেকেই বিজেপির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে কংগ্রেস কামব্যাক করার লক্ষ্যে এগোতে শুরু করল। কর্ণাটকে বিজেপিকে আটকাতে জেডিএসকে সমর্থন দিয়েই কংগ্রেসের বিজয়যাত্রা শউরু হয়ছ তার আগেও অবশ্য ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভায় কংগ্রেসের মহাজোট বিজেপিকে ভোটে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

বিহার ও কর্ণাটকের গল্প একটু আলাদাই
কিন্তু ২০১৭ সালে সেই জোট ভেঙে জেডিইউ সুপ্পিমো নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে হাত মেলায়। ফলে বিহার হয়ে যায় গেরুয়া। কর্ণাটকও এই ২০১৯-এ গেরুয়া হয়েছে। কর্ণাটকেও ভোটের পর বিজেপি নীতির বালাই না রেখে সরকার গড়েছিল। সেই সরকার ফেলে কংগ্রেস-জেডিএস জোট ক্ষমতায় আসে। তাদেরকে অপসারিত করে কর্ণাটকে এখন গেরুয়ারাজ।

১৯-এর শেষে গেরুয়া রঙ আরও ফিকে
বছর শেষের সপ্তাহকাল আগেই ফের ধাক্কা বিজেপি শিবিরে। আরও একটি রাজ্যের ক্ষমতা হাতছাড়া হল বিজেপির। বিজেপিকে হারিয়ে ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতায় এল কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোট। বছরের শেষে ভারতের মানচিত্রে আরও ফিকে হল গেরুয়া রঙ। গেরুয়া মুছে ভারতের মানচিত্রে এখন নানা রঙের সমাহার।

২০১৯-এর শেষে কংগ্রেস-বিজেপি প্রায় সমান সমান
২০১৯-এর শেষে রাজ্যওয়াড়ি বিচারে কংগ্রেস-বিজেপি প্রায় সমান সমান। বাকি অংশে আঞ্চলিক দলের দাপাদাপি। সেই হিসেবে তিনভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে ভারত। ১৯-শের লোকসভায় বিপুলভাবে জিতেও বিজেপির রাজ্যওয়াড়ি ফল কেন তলানিতে পৌঁছে গেল তা দেখা দরকার মোদী-শাহদের।

২০২০-এর শেষে বিজেপি পরিস্থিতি আরও করুণ হবে!
তা না হলে ২০২০-এর শেষে বিজেপি পরিস্থিতি আরও করুণ হতে পারে। কেননা ২০২০-তো বিহার ও দিল্লির ভোট রয়েছে। তারপর কর্ণাটক, গোয়া, মনিপুর, যেভাবে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি, তা যে কোনও মুহূর্তে অন্য দিকে ঢলে পড়তে পারে। ঝাড়খণ্ড নির্বাচন জেতার পর কংগ্রেসও আশাবাদী। লোকসভায় হারের পর কংগ্রেসও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, বুঝিয়ে দিতে পেরেছে বিজেপি অপ্রতিরোধ্য নয়।

লোকসভার আগে ৫ রাজ্যের ফলে অশনি সংকেত
লোকসভার আগে ৫টি রাজ্যে নির্বাচন হয়েছিল। তার মধ্যে বিজেপি একটি রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। তাদের হাতছাড়া হয়েছে তিনটি রাজ্যই। বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়। তিন রাজ্যই কংগ্রেস কেড়ে নিয়েছে বিজেপির হাত থেকে। আর দুটি রাজ্য- তেলেঙ্গানা ও ওড়িশায় আঞ্চলিক দলের আধিপত্যই বজায় রয়েছে।

লোকসভার পরে তিন রাজ্যের ফলে আরও শক্তি হ্রাস
লোকসভার পরে তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে কোনওরকমে একটি রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। হরিয়ানায় বিজেপি ক্ষমতা দখল করেছে বিরোধী শিবিরের একাংশের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে। আর মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ড কংগ্রেস দখল করেছে আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে জোট করে।












Click it and Unblock the Notifications