খোরপোশ নেওয়া মেয়েদের আইনি অধিকার! স্ত্রীর ডিগ্রির উপর নির্ভর করে না, সাফ জানাল হাইকোর্ট
স্ত্রীর উচ্চশিক্ষা অথবা কারিগরি প্রশিক্ষণ থাকলেই ভরণপোষণ দেওয়া যাবে না! এইরকম ধারণায় এবার কার্যত ইতি টানল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। দাম্পত্য বিরোধ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, শুধু ডিগ্রি অথবা দক্ষতার অজুহাতে স্বামী নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

বিচারপতি গরিমা প্রসাদের বেঞ্চ জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিন সংসার সামলানোর পর কোনও শিক্ষিত নারীর পক্ষে হঠাৎ কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া বাস্তবে খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই উপার্জনের সম্ভাবনা দেখিয়ে ভরণপোষণ বন্ধ করা একদমই আইনসঙ্গত নয়।
এই মামলায় বুলন্দশহরের পারিবারিক আদালত স্ত্রীর এমএ ডিগ্রি এবং আইটিআই প্রশিক্ষণের কথা তুলে ধরে তাঁর ভরণপোষণ আবেদন খারিজ করেছিল। সেইসঙ্গে নাবালক ছেলের জন্য মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছিল। সেই রায়ই এবার বাতিল করল হাইকোর্ট।
আদালত জানিয়েছে যে, ভরণপোষণের উদ্দেশ্য হলো শুধুমাত্র খাওয়াদাওয়াই নয়, বরং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নাবালক সন্তানের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এত কম টাকা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায় যে, ২০০৬ সালে বিয়ে হয় দম্পতির। পরে পণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে একাধিকবার স্ত্রীকে বাড়ি ছাড়তে হয়। বর্তমানে তিনি নাবালক ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। স্বামী একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে কর্মরত। তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৩৫-৪৮ হাজার টাকার মধ্যে।
সব দিক বিবেচনা করার পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের দেওয়া আগের নির্দেশ পুরোপুরি ভাবে বাতিল করেছে। এক মাসের মধ্যে নতুন করে ভরণপোষণের অঙ্ক ঠিক করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বলা হয়েছে যে, অযথা ঋণের অজুহাত দেখিয়ে আসল আয় লুকোনো যাবে না।
এই রায় ভবিষ্যতের বহু ভরণপোষণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভরণপোষণ কোনও দয়া নয়, এটি আইনে স্বীকৃত একটি অধিকার।












Click it and Unblock the Notifications