দিল্লিতে শ্রদ্ধা কাণ্ডের ছায়া উত্তরপ্রদেশে, অন্য় জনকে বিয়ে করায় প্রাক্তনীর দেহ টুকরো টুকরো করল প্রেমিক
সম্প্রতি দিল্লিতে যে ঘটনা ঘটেছে তা একদম ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রেমিক টুকরো টুকরো করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রেখেছিল দেহ। ধীরে ধীরে যত সামনে এসেছে সেই খবর তত ভারতের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছে। অনেকেই ভেবেছেন এমনও সম্ভব? এই রহস্য এখনও পুরোপুরি উদ্ঘাটন হয়নি। এর মধ্যেই আবারও প্রায় একইরকম ঘটনার খবর আসতে শুরু করেছে। এবারের ঘটনা উত্তরপ্রদেশের। অন্যজনকে বিয়ে করেছিল তার প্রেমিক তাই সেই মেয়েটিকে সেই শ্রদ্ধার মতই টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেছে।

কবে ঘটে এই ঘটনা?
বেশিদিন আগেকার ঘটনা নয়। ১০ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তের নাম প্রিন্স যাদব। সে ওই মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ রবিবার এই ঘটনার খবর পায়। পুলিশ জানিয়েছে যে, একটি কূপের মধ্যে থেকে মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি মূলত ঘটেছে পশ্চিম পট্টি গ্রামে। এটি আজমগড় জেলায় অবস্থিত। প্রিন্স যাদব এই কাণ্ড ঘটায় তার খুড়তুতো ভাই সরবেশকে সঙ্গে নিয়ে। খুন করে আরাধনা প্রজাপতি নামে ২২ বছরের মেয়েটিকে। প্রথম শ্বাসরোধ করে তাঁকে মেরে ফেলে। এতেও শান্ত হয়নি। এরপর টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয় দেহ। তারপর তা ফেলে দেওয়া হয় কূপের মধ্যে।

মাথা থেকে দেহ আলাদা
মাথা থেকে দেহ আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। মাথা মেলে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পুকুর থেকে। জানা গিয়েছে যে প্রিন্স ও আরাধনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই তাঁকে অন্য এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় আরাধনার পরিবার। সেই রাগের সূত্রপাত। এতদিন ধরে রাগ চেপে রেখেছিল সে। খুঁজছিল সুযোগ।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ঘটনায় প্রিন্সের বাবা মা এবং আত্মীয়দের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দুজনেই পলাতক ছিল। এরপর ১৯ তারিখ প্রিন্সকে ধরে ফেলে পুলিশ। পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল সেই জায়গায় যেখানে সে আরাধনার মাথা কেটে ফেলে রেখেছিল। তখন সে পালানোর চেষ্টা করে। অবশ্য তাতে লাভ হয়নি।

পুলিশি জেরায় স্বীকার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে আরাধনাকে ১০ নভেম্বর থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশ সন্দেহভাজনদের প্রথমে খুঁজতে শুরু করে। সেই তালিকায় সবার প্রথমে এসেছিল প্রিন্সের নাম। প্রিন্স আরাধনাকে বিয়ে ভাঙার জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। বলেছিল যে পালিয়ে আসতে। প্রিন্স প্রথমে কিছু বলতে না চাইলেও পুলিশি জেরার সামনে দ্রুত ভেঙে পড়ে। স্বীকার করে নেয় যে এই ন্যক্কারজনক কাণ্ড তার। পরিচয় গোপন করতেই এইভাবে দেহ টুকরো করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications