শরিয়তি আইনকে চ্যালেঞ্জ, তিন তালাক' নির্দেশের এই পিটিশন দাখিল মহিলার
শরিয়তি আইনকে চ্যালেঞ্জ, তিন তালাক' নির্দেশের এই পিটিশন দাখিল মহিলার
রায়পুরে একটি শরিয়তি আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করল এক মহিলা। 'তিন তালাক' নির্দেশের বিরুদ্ধে এই পিটিশন দাখিল করেন ওই মহিলা।

আবেদনকারী এখানে একটি মহিলা থানায় তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন এবং 'ওয়ান স্টপ সখী সেন্টার' (যা নারী-সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে থাকে) কাউন্সেলিং ব্যর্থ হয়েছিল৷ পরে মহিলার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। কিন্তু, উত্তরদাতা (মহিলার স্বামী) 'তিন তালাকের' জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানায় মহিলার আইনজীবী দেবর্ষি ঠাকুর।
জানা গিয়েছে 'ইদারা-ই-শরিয়া ইসলামী আদালত' গত মাসে মহিলার বিরুদ্ধে তিন তালাকের আদেশ পাস করে। বিলাসপুর হাইকোর্টে সম্প্রতি জমা দেওয়া তার আবেদনের ভিত্তিতে মহিলা জানান তাকে শুনানির কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা ভারতের সংবিধানের অধীনে প্রদত্ত জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
পয়লা আগস্ট মুসলিম মহিলাদের কাছে এমন একটি দিন, যেদিন তাঁরা সামাজিক কুপ্রথা তিন তালাক থেকে মুক্ত হয়েছেন। পয়লা আগস্ট দিনটি দেশের ইতিহাসে মুসলিম মহিলা অধিকার দিবস হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।
তিন তালাক বা তালাক এ বিদ্দত কখনই ইসলাম ধর্মের এমনকি আইনের অঙ্গ ছিল না। তা সত্ত্বেও তিন তালাকের সামাজিক কুসংস্কারকে ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থ পূরণে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হয়েছিল।
২০১৯ - এর পয়লা আগস্ট ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটিতে তিন তালাক প্রথার বিরুদ্ধে আইন কার্যকর হয়।
সামাজিক কুপ্রথা তিন তালাকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইন ১৯৮৬ সালেই সংসদের অনুমোদন পেয়ে যেতো। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট শাহবানো মামলায় ঐতিহাসিক এক রায় দিয়েছিল। লোকসভায় ৫৪৫টি আসনের মধ্যে ৪০০টিরও বেশি আসনে কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। এমনকি, রাজ্যসভায় ২৪৫ জন সদস্যের মধ্যে ১৫৯ জনেরও বেশি ছিলেন কংগ্রেসের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তৎকালীন রাজীব গান্ধী সরকার সংসদে তার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়টিকে কার্যকর করতে দেয়নি। ফলস্বরূপ, মুসলিম মহিলাদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারগুলিকে একপ্রকার অবজ্ঞা করা হয়েছিল।
বিশ্বের একাধিক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তিন তালাক প্রথাকে বেআইনি এবং ইসলাম বিরোধী বলে আগেই ঘোষণা করেছে। মিশর হ'ল প্রথম মুসলিম রাষ্ট্র, যেখানে ১৯২৯ সালে সামাজিক এই কুপ্রথা বাতিল করা হয়। একইভাবে, ১৯২৯ সালে সুদানে, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে, ১৯৫৯ সালে ইরাকে, ১৯৫৩ সালে সিরিয়ায় এবং ১৯৬৯ সালে মালয়েশিয়াতে তিন তালাক প্রথা চিরতরে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও, সাইপ্রাস, জর্ডন, আলজেরিয়া, ইরান, ব্রুনেই, মরক্কো, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমীরশাহীতে বহু বছর আগেই সামাজিক এই কুপ্রথাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর প্রথাটিকে নির্মূল করতে ৭০ বছর লেগে গেছে।












Click it and Unblock the Notifications