প্রেমে ৪৮ লক্ষ টাকার প্রতারনার শিকার মহিলা চিকিৎসক, গ্রেফতার ৩
নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই : নিজেকে প্রবাসী চিকিৎসক বলে দাবি করে পরমার (পরিবর্তিত নাম) ম্যাট্রিমনি সাইটে আবির্ভূত হন এক ব্যক্তি। পরমা, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, সাড়া দিতে দেরি করেননি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রায় ১ মাস মেলামেশা-কথাবার্তা বলার ওই ব্যক্তিকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন পরমা। কিন্তু তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি আগামী ৬ মাস কীভাবে তিনি পদে পদে প্রতারিত হবেন এবং তাঁর হবু বর তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে।
হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা পরমা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, অভিষেক মোহন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ইন্টারনেটে তাঁর আলাপ হয়। তাদের মধ্যে চ্যাটের মাধ্যমে কথাবার্তা শুরু হয়। অভিষেক পরমাকে বলেছিল সে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। অর্থোপেটিক সার্জন হিসাবে প্র্যাকটিস করছে সে। ব্রিটিশ সেনার হয়ে ইরাকে জাতি সংঘের মানবিক মিশনে রয়েছে সে।

অভিষেক পরমাকে বলেছিল তাঁর কাছে একটি যুক্তরাজ্যের ফোন নম্বর রয়েছে আর একটি ভারতীয় ফোন নম্বর রয়েছে যেটি 'ইন্টারন্যাশনাল রোমিং'-এ রয়েছে। অভিষেক একপ্রকারের জেদ করেই তাদের গল্প সাধারণ চ্যাটের পরিবর্তে ভাইবার-এ কথা বলতে শুরু করেন।
কিছুদিন বাদে অভিষেক পরমাকে জানায়, ব্রিটিশ চিকিৎসকরা প্রচুর ছাড় পায় বলে চিকিৎসাক জন্য কিছু দামি যন্ত্রপাতি সে কিনেছে। আর সন্ত্রাসবিরোধি অপারেশনে ইরাকের মদত করায় ইরাকি সরকার তাঁকে কিছু গয়না এবং শোনা উপহার দিয়েছে।
এর কয়েক মাস পরে অভিষেক পরমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে জানায়, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে সে ভারতে এসে পরমার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করবে। এরপর অভিষেক ওই যন্ত্রপাতি এবং গয়না-সোনা যার মোট মূল্য মাকি ৫ কোটি টাকা, তা পরমার কাছে রাখার প্রস্তাব দেয়, কারণ হিসাবে অভিষেক জানায় ভারতে তার কোনও আত্মীয়কেই সে সেভাবে ভরসা করতে পারে না।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী,৭ এপ্রিল এই জিনিস পত্রগুলি পৌছনোর কথা ছিল। এরপরই পরমা একটি ফোন পান, যেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে শুল্ক দফতরের ইনসপেক্টর বলে দাবি করে। এবং বলে, জিনিস পত্র কয়েক কোটি টাকার। 'ক্লিয়ারেন্স ফি' না দিলে তা ছাড়া হবে না। দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়ে জিনিস ছাড়িয়ে আনার কথা বলে ওই ব্যক্তি।
এর কিছুক্ষণ পরে অভিষেক পরমাকে ফোন করে 'ক্লিয়ারেন্স ফি' মিটিয়ে দিতে বলে। পরমাকে ২০ লক্ষ টাকা একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়। সেই টাকা দেওয়ার পরেও 'শুল্ক দফতরের' তরফে 'মানি লন্ডারিং ক্লিয়ারেন্স', 'অ্যান্টি টেররিস্ট ফান্ডিং ক্লিয়ারেন্স' আরও বিভিন্ন ধরণের ক্লিয়ারেন্স ফি চাওয়া হয়। পরমা নিজের বন্ধুর থেকে টাকা ধার করে, ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে এই সব টাকা মেটায়।
প্রায় ৪৮,০০,০০০ টাকা জমা দেওয়ার পর বিষয়টি জানানোর জন্য অভিষেককে ফোন করার চেষ্টা করে পরমা। কিন্তু ততক্ষণে ফোন সুইচড অফ। বিমানবন্দর আধিকারিকদের থেকে খোঁজ নিয়ে পরমা জানতে পারে তাঁর নামে কোনও জিনিস যা ক্লিয়ারেন্স-এর জন্য আটকে রয়েছে এমন কোনও জিনিস আসেইনি।












Click it and Unblock the Notifications