কাঁথিতে গণধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা দাবি পুলিশের, ক্ষোভ

কাঁথির সুনিয়া গ্রামে সিপিএম নেতা ব্যোমকেশ গিরির স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তিনজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরা হল স্বপন জানা, চন্দন জানা ও মানিকলাল গিরি। সোমবার গভীর রাতে এদের পাকড়াও করা হয়। এখনও ন'জন অভিযুক্ত পলাকত। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
আরও পড়ুন: কাঁথিতে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত তিন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী
রসুলপুর নদের ধারে অবস্থিত সুনিয়া গ্রামের মানুষ সরাসরি মিডিয়াকে জানিয়েছেন, রবিবার সকালে অন্তত দেড়শো বহিরাগত ছেলে গ্রামে ঢুকেছিল। এরা সবাই স্থানীয় শাসক দলের নেতাদের কথায় এসেছিল বলে অভিযোগ। সিপিএম নেতা ব্যোমকেশ গিরির বাড়িতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েই এসেছিল। যখন তাঁর স্ত্রীকে রাস্তার মোড়ে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করা হচ্ছে, তখন ওই বহিরাগত যুবকরা এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। এমনকী, ওইদিন রাতে যখন মহিলাটিকে ১২ জন মিলে ধর্ষণ করছিল, তখন তাঁর আর্ত চিৎকারেও কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। মহিলার স্বামী ও দেওর পুলিশের কাছে স্পষ্ট অভিযোগ জানিয়েছিলেন, ধর্ষণের পরই গলা টিপে মারা হয়েছে তাঁকে। তবুও ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি 'পরিষ্কার' হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
এ ব্যাপারে সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেছেন, "পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের মতো এক্ষেত্রেও তদন্ত শুরু হওয়ার আগে পুলিশ বলে দিল ধর্ষণ হয়নি।" ময়নাতদন্তের রিপোর্টও ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু বলেছেন, "পুলিশের একাংশও এই ঘটনায় জড়িত। তারা সব কিছুই জানত।"
সুনিয়া গ্রামে নিজের বাড়িতেই ওই মহিলাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে তাই দাবি করছেন পাড়ার লোকেরা। দেখা গিয়েছে, বাড়ির মাটির মেঝে খোঁড়া হয়েছে জায়গায়, জিনিসপত্র লন্ডভন্ড। প্রশ্ন উঠেছে, কেউ যদি আত্মঘাতী হন, তা হলে তার আগে ঘরের মেঝে খামোখা খুঁড়তে যাবেন কেন? কেনই বা ঘরের জিনিস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কেউ ফেলে দেবে আত্মঘাতী হওয়ার আগে? আসলে শাসক দলের গুন্ডারা ঘরে ঢুকে মেঝে খুঁড়ে দেখেছিল, সেখানে টাকাপয়সা লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না। এমনই দাবি স্থানীয় লোকজনের।












Click it and Unblock the Notifications