সিপিআইএম-কংগ্রেসের নাম নিলেও এদিনও তৃণমূল ব্রাত্য! ত্রিপুরায় শুভেন্দু স্মরণ করালেন দ্বিদলীয় শাসনের সময়ের কথা
আগের দিনের মতো এদিন ত্রিপুরার মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিলেন না তৃণমূলের নাম। এদিন তিনি বাম-কংগ্রেস সমঝোতাকে নিশানা করেছেন।
ত্রিপুরায় ফের ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি করার ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি প্রথম নির্বাচনী সভা করেন রাধাকিশোরপুরে।
সেখানে তিনি দাবি করেন, বিজেপির শাসনে ত্রিপুরায় শান্তি বিরাজ করছে। দিল্লিতে বিজেপির কোনও বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরায় সফর নিয়ে
সোমবার ত্রিপুরায় গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালে আগরতলায় যান পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে তিনি বিমানবন্দরে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরায় যাওয়াকে গুরুত্বই দিচ্ছি না বিজেপি। নোটার থেকেও তারা কম ভোট পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, ত্রিপুরায় তৃণমূলের নাম উচ্চারণ করা হবে না। কেউ সেই নাম বলবেন না, কেননা তারা গণনার মধ্যেই নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় এসেছেন বলে, একটু বলতে হল, না হলে তিনি এব্যাপারে কথাই বলতেন না, বলেছেন শুভেন্দু। তিনি আরও বলেন, নন্দীগ্রামের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানুষ বর্জন করেছেন।

মানুষ উন্নয়নের পক্ষে
শুভেন্দু অধিকারী এদিন ত্রিপুরায় প্রথম সভা করেন রাধাকিশোরপুরে। সেখানে তিনি ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, সিঙ্গল ইঞ্জিন হলে লাইনচ্যুত হয়ে যেতে পারে। যেমনটা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পিএফ কিষাণ যোজনা প্রথমে চালুই হতে দেয়নি। ফসল বিমা যোজনা পূর্ব ভারতে ওড়িশা পর্যন্ত গিয়ে আটকে রয়েছে। আয়ুষ্মান ভারতও চালু করতে দেয়নি পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বলেন, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে। মানুষ অশান্তি চায় না। ভেদাভেদ চায় না। বাঙালি-উপজাতি লড়াই চায় না। তিনি বলেন মানুষ শিল্প চায়। তিনি এব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে গত ১২ বছরে কোনও শিল্প হয়নি। এমন কী সিঙ্গুরের কারখানা ডিনামাইট দিয়ে ভাঙা হয়েছে।

বিকাশবাদ জয়ী হবে, বিচ্ছিন্নতাবাদ পরাস্ত হবে
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এবার বিকাশবাদ জয়ী হবে, বিচ্ছিন্নতাবাদ পরাস্ত হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় শান্তি বিরাজ করছে। একটা সময় এই ত্রিপুরাতেই জঙ্গলের রাজত্ব ছিল বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

কংগ্রেস ও সিপিআইএমের সময়ের কথা উল্লেখ
রাধাকিশোরপুরের সমাবেশ থেকে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সালে ত্রিপুরায় জঙ্গলের রাজত্ব ছিল। সেই সময় বামেরা তৎকালীন কংগ্রেসীদের ওপরে আক্রমণ করেছে। আবার ১৯৮৮-র নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরে সুধীর মজুমদার মুখ্যমন্ত্রিত্বে কংগ্রেস সিপিএম-এর ওপরে হামলা করেছে। এই কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ১৯৮৮-র নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের কাণ্ডারী সন্তোষমোহন দেবকে রিগিং দেব বলেও কটাক্ষ করেন। পরে ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ২৫ বছরেও সিপিআইএমের নেতৃত্বে বামেরা কংগ্রেস কর্মীদের ওপরে হামলা করেছে। এবার সেই দুদলের জোট হয়েছে বলেন তিনি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কংগ্রেস মাত্র ১৩ আসন নিয়ে মাথা নুইয়েছে সিপিআইএম-এর কাছে। আর মানিক সরকার, বাদল চৌধুরীরা চালাক বলেই নির্বাচনে দাঁড়াননি। কারণ তাঁরা নির্বাচনে পরাস্ত হতেন, বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।












Click it and Unblock the Notifications