দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পজিটিভ কেসের হার, মিজোরামে শীঘ্রই পৌঁচ্ছাছে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞের দল
দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পজিটিভ কেসের হার, মিজোরামে শীঘ্রই পৌঁচ্ছাছে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞের দল
দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ যেন কমছেই না। কেরল নিয়ে কেন্দ্র সরকারের চিন্তা একটু কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে মিজোরামকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হল। এ রাজ্যে কোভিড–১৯ কেস বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র সরকার সতর্ক হয়ে গিয়েছে। করোনার সঙ্গে লড়াই করার জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও ওষুধ মিজোরামে পাঠানোর পাশাপাশি উত্তরপূর্ব রাজ্যে বিশেষজ্ঞের দলও পাঠানো হবে। মিজোরামে কোভিড পজিটিভিটি হার লাফিয়ে বেড়েছে ১৮.৪৪ শতাংশ, যা ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হবে
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, দেশের সাপ্তাহিক পজিটিভ হার ছিল ১.৭৪ শতাংশ, যা গত ৯৭ দিনের তুলনায় ৩ শতাংশ কম ছিল এবং দৈনিক পজিটিভ হার ১.৫৬ শতাংশ, যা গত ৩১ দিনের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ সচিব রাজেশ ভূষণ মিজোরাম সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বুধবার দিল্লিতে কথা বলার সময় তাঁদের জানিয়ে ছিলেন যে যত শীঘ্র সম্ভব মিজোরামে বিশেষজ্ঞের দল পাঠানো হবে।

বিনামূল্যে মিজোরামকে ওষুধ দেওয়া হবে
আইজলের স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান যে ভূষণ মিজোরামের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন যে কেন্দ্র মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ককটেইল (ম্যাক)-এর বন্দোবস্ত করছে। এই ওষুধটির মূল্য অত্যাধিক হলেও তা উচ্চ-কার্যকর কোভিড ওষুধ বলে পরিচিত, যার দাম প্রতি সেট ১,২০,০০০ টাকা। রাজ্য সরকার অনুরোধ করায় নিজোরামকে এই ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। মিজেরাম প্রতিনিধিদের রাজ্যকে আর্থিক সহায়তা করার দাবি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন যে জরুরি কোভিড প্রতিক্রিয়ার অন্তর্গত ১৪,৭৪৪.৯৯ কোটি টাকার প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়েছে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য এবং মিজেরামের জন্য ৪৪.৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের শীর্ষ আধিকারিক এ প্রসঙ্গে বলেন, 'বরাদ্দ অর্থের প্রথম কিস্তি ১৯.৯৪ কোটি টাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম কিস্তির টাকার খরচের হিসাবের তথ্য পেশ করার পরই বাকি বরাদ্দ অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে।'

কেন্দ্রের সহায়তা চায় মিজোরাম
রাজ্যের লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য সি. লালরোসাঙ্গা ও কে. ভানলাভেনা, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি রোসাংজুয়ালা ও দিল্লির রাজ্যের আবাসন কমিশনার আমজাদ তক সহ চারজন মিজোরামের প্রতিনিধি দিল্লি এসেছিলেন আলোচনা করতে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, দেশের কোভিড সঙ্কট পরিচালনার জন্য লালরোসাঙ্গা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিবের প্রশংসা করেন এবং জানান যে ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য কোভিড-সংক্রান্ত উপাদানের জন্য মিজোরাম কেন্দ্রীয় সহায়তা আশা করছে কেন্দ্রের থেকে। মিজোরামে কোভিড পজিটিভ কেস বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বরাদ্দ অর্থের বাইরেও মিজোরাম কেন্দ্রের থেকে সক্রিয় সমর্থন আশা করছে। প্রতিনিধি দলটি রাজ্যে চলমান কোভিড সঙ্কট পরীক্ষা করার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে মিজোরামে পাঠানোর অনুরোধ করেছে।'

দৈনিক ১৫০০ করোনা কেস ধরা পড়ছে
মিজোরামের স্বাস্থ আধিকারিকদের মতে, গত দু'সপ্তাহ ধরে দৈনিক প্রায় ১,৫০০ জন মানুষের করোনা টেস্ট পজিটিভ এসেছে। ১,১০০,০০০ জনসংখ্যা (২০১১ জনগণনা অনুযায়ী) সহ মিজোরাম ভারতের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার রাজ্য, এখানে ইতিমধ্যেই ৯৩,৬৬০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩০৯ জনের। কোভিড তথ্য বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ মানুষ এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মিজোরামের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে রাজ্যের সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৮২.৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে জাতীয় সুস্থতার হার ৯৭.৮৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবারের করোনা রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিজোরামে ১৫,৮১৫টি সক্রিয় কেস রিপোর্ট হয়, বিপরীতদিকে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭৭,৫৩৬ জন। রাজ্যের ১১টি জেলার মধ্যে আইজলে সবচেয়ে বেশি করোনা কেস (৫৯,৫৩৩টি) দেখা গিয়েছে এবং এখানে ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই রয়েছে কোলাসিব (৬,৯৫২টি কেস ও ২৪টি মৃত্যু) ও লাঙ্গলেই (৬,৮৫৫টি কেস ও ১৭ টি মৃত্যু)। একমাত্র খাওযাওলে এখনও পর্যন্ত ৫৯৬ জন করোনা পজিটিভ হওয়ার পরও এখনও কারোর মৃত্যু হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications