দেশের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি! গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট চরম পরিস্থিতিতে পৌঁছনোর আশঙ্কা

ফেব্রুয়ারিতে যেমনভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি শুরু হয়েছে, তাতে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতর হাল ছাড়তে নারাজ।

শীতের বিদায় হতে না হতেই দেশের বিভিন্ন অংশ তাপমাত্রা ঊর্ধ্বগামী। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। ফলে ফেব্রুয়ারির শেষের সঙ্গে গ্রীষ্মের পরিস্থিতির তুলনায় উদ্বেগ তৈরি করছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, গ্রীষ্মের বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেবে।

তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি

তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি

ইতিমধ্যেই কলকাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি ওপরে। বাঁকুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যে্ই ৩৭ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছে। চলে যাওয়া সপ্তাহে দেশের কোনও কোনও জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের থেকে ১১ ডিগ্রি ওপরে। এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে কৃষকদের গম-সহ অন্য ফসল পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারিতেই বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চের কাছে

জানুয়ারিতেই বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চের কাছে

এই বছরের জানুয়ারিতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২১১ গিগাওয়াট ছুঁয়েছে। যা গত গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদার কাছে। গত গ্রীষ্মে আগেকার গু বছরের মহামারীর ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার পরেই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি আগেকার ১২২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দেওয়ায় সাধারণ মানুষও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।

বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি

বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি

পরপর দুবছর করোনার কারণে ত্রস্ত সাধারণ মানুষজনের অনেকেই বাড়ি থেকে অফিস-সহ যাবতীয় কাজ চালিয়েছেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অন্যদিকে শীত কাটতে না কাটতেই তাপমাত্রা যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিক তো বটেই। এর ফলে সেচ পাম্প এবং এয়ার কন্ডিশনারগুলি ব্যবহার যত বাড়বে, ততই বাড়বে বিদ্যুতের ব্যবহার। ফলে দেশে বিদ্যুতের নেটওয়ার্কের ওপরে চাপ বাড়িয়ে তুলবে।

সরকারের তরফে পদক্ষেপ

সরকারের তরফে পদক্ষেপ

এই পরিস্থিতিতে দেশের কয়লার ওপরে ভরসা করে নয়, বিদেশ থেকে আমদানি করা কয়লার ওপরে ভরসা করে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে গ্রীষ্মের তিনমাসের জন্য উৎপাদন সর্বোচ্চ ক্ষত্রমতায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অনুমান এবছরের এপ্রিলে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ২২৯ গিগাওয়াটে পৌঁছে যেতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতেই যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। আর কৃষকরা তাদের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করলে এবার বিদ্যুতের চাহিদা গতবারের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে বলেো মনে করছে কোনও কোনও মহল।
ভারতে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, তার ৭০ শতাংশ হয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে তাদের মজুত লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ মার্চ শেষ হওয়ার আগেই পূরণ করতে বলেছে।

আবহাওয়া দফতরের আশ্বাসবাণী

আবহাওয়া দফতরের আশ্বাসবাণী

তবে আবহাওয়া দফতরের আশ্বাসবাণী বর্তমানে তাপমাত্রা যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে রয়েছে, তার অর্থ এই নয়, মার্চ থেকে মে মাসে তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। আর ফেব্রুয়ারিতে এই ধরনের তাপমাত্রা দেখলে যে কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়বেন, সেই বিষয়টিতে স্বাভাবিক বলেও মেনে নিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+