ওমিক্রনের জন্য দেশে তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা, দাবি আইআইটির বিজ্ঞানীর
ওমিক্রনের জন্য দেশে তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা
দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন রীতিমতো সকলের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এরই মাঝে কোভিড–১৯–এর গাণিতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকা আইআইটির বৈজ্ঞানিক মণীন্দ্র আগরওয়াল এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সার্স–কোভ–২–এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের তৃতীয় ওয়েভ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভবত শীর্ষে পৌঁছাবে এবং সেক্ষেত্রে দৈনিক কেস পৌঁছাতে পারে ১–১.৫ লক্ষে। তবে দ্বিতীয় ওয়েভের তুলনায় তা অনেকটা হাল্কা হবে।

ওমিক্রনের কারণে ভারতে তৃতীয় ওয়েভ
তিনি এও জানান যে নতুন পূর্বাভাসে নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে। আগরওয়াল বলেন, 'আমাদের সাম্প্রতিক করা পূর্বাভাস অনুযায়ী নতুন এই ভ্যারিয়েন্টই দেশে তৃতীয় ওয়েভ নিয়ে আসতে পারে ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিন্তু তা দ্বিতীয় ওয়েভের তুলনায় অনেক হাল্কা হবে। এখন পর্যন্ত আমরা দেখেছি যে ওমিক্রনের তীব্রতা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো নয়।'

ওমিক্রন ডেল্টার মতো তীব্র নয়
আগরওয়াল এও জানিয়েছেন যে এই ভ্যারিয়েন্টের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক কেস রিপোর্ট হয়েছে তাই ওই দেশের ওপর নজরদারি চলছে। তবে ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাতে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। তিনি জানিয়েছেন যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাওয়া এই ভাইরাস ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আরও ভালো চিত্র পেতে তা সহায়তা করবে। আগরওয়াল বলেন, 'দেখে যদিও মনে হচ্ছে যে নতুন ভ্যারিয়েন্ট উচ্চ সংক্রমণযোগ্য হলেও এটি ডেল্টার মতো অতটা তীব্র নয়।' তিনি জানিয়েছেন যে ডেল্টা সংক্রমণের সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে হাল্কা লকডাউনের (রাত্রিকালীন কার্ফু, জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা) সময়, এই ভ্যারিয়েন্ট বিটাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে। তবে আপাত দৃষ্টিতে ওমিক্রনের ভ্যারিয়েন্টকে দেখে সেরকম তীব্র বলে মনে হচ্ছে না।

সূত্র মডেলের পূর্বাভাস ব্যর্থ
প্রসঙ্গত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের (ডিএসটি) সূত্র মডেল আগেই জানিয়েছিল যে নতুন ভ্যারিয়েন্ট সহ করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ওয়েভ ভারতে অক্টোবরে হানা দেবে, যা ডেল্টার চেয়ে বেশি মারাত্মক ও সংক্রমণযোগ্য। যদিও নভেম্বরের শেষের দিকেও কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান মেলেনি। তাই তারা পুনরায় তাদের পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে।

হু–এর উদ্বেগ
গত ২৬ নভেম্বর, হু-এর পক্ষ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশে সনাক্ত হওয়া নতুন এই ভ্যারিয়েন্টকে ওমিক্রন হিসাবে নামকরণ করে। শুধু তাই নয় এই ওমিক্রনকে হু 'ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন' হিসাবে বিবেচিত করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন যে ভাইরাসটির জিনগত পরিবর্তনের কারণে এটি কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে পারে। যদিও এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে সংক্রমণ বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে, তবে এটি গুরুতর রোগের কারণ হবে কিনা এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এড়াবে কিনা সে সম্পর্কে এখনও যথেষ্ট স্পষ্টতা বা প্রমাণ নেই।

ভারতে ওমিক্রনের কেস
ভারতে এখনও পর্যন্ত ২১টি ওমিক্রনের কেস পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে রবিবারই ১৭টি কেস রিপোর্ট হয়েছে। এঁদের মধ্যে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ৯ জন, সাতজন মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে এবং তানজানিয়া থেকে দিল্লিতে আসা এক ব্যক্তি এই তালিকায় রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications