গ্রেপ্তারের সময় কি এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে লিখিত কারণ জানাতে হবে? সুপ্রিম কোর্টের নয়া রায়ে কী বদলাতে চলেছে?
দেশের আইনব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভবিষ্যতে যেকোনও অপরাধে, যেকোনও আইনের আওতায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রেপ্তারের কারণ অবশ্যই লিখিত আকারে অভিযুক্তকে জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, যে ভাষায় অভিযুক্ত বোঝেন, সেই ভাষাতেই তাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
নয়া নির্দেশে আদালত স্পষ্ট বলে দিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর কোনও কারণে তখনই লিখিত নথি দেওয়া সম্ভব না হলে, প্রথমে মৌখিকভাবে কারণ জানানো যেতে পারে। তবে রিমান্ডের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তোলার দুই ঘণ্টা আগেই সেই কারণ লিখিত নথিতে অভিযুক্তের হাতে তুলে দিতে হবে। না হলে গ্রেপ্তার বেআইনি বলে গণ্য হবে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মুক্তির দাবি করতে পারবেন।

এ রায় এসেছে ২০২৪ সালের আলোচিত মুম্বই বিএমডব্লিউ হিট অ্যান্ড রান কাণ্ডে অভিযুক্ত মিহির রাজেশ শাহের মামলা ঘিরে। সেখানে অভিযোগ ছিল, গ্রেপ্তারের সময় তাকে লিখিতভাবে কারণ জানানো হয়নি। সেই প্রেক্ষিতেই এই বড় রায়।
প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই ও বিচারপতি এ জি মসিহ বেঞ্চ জানায় ভারতের সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের কারণ জানানোর যে নির্দেশ আছে, তা কোনও নেহাত প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক সুরক্ষা।
বিচারপতি মসিহের ৫২ পাতার রায়ে বলা হয়েছে "সংবিধানের এই নির্দেশ কেবল মুখে বললেই চলবে না। লিখিতভাবে অভিযুক্তকে জানানো অপরিহার্য। পাশাপাশি তা অবশ্যই এমন ভাষায়, যা তিনি বুঝতে পারেন।"
সুপ্রিম কোর্টের যুক্তি
লিখিত নথি শুধু অভিযুক্তের অধিকার রক্ষা করে না, ভবিষ্যতে তদন্তকারী সংস্থাকেও সাহায্য করে প্রমাণ করতে যে তারা বিধি মেনেই গ্রেপ্তার করেছে।
রায়ের কপি সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব ও সব উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতেও হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
এই রায় বলছে কেউই আইনের উপরে নয়, এমনকী রাষ্ট্রও নয়।
গ্রেপ্তার মানে ভয় দেখানো নয়।
গ্রেপ্তার মানে আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও ব্যক্তির অধিকারকে সম্মান জানিয়ে পদক্ষেপ।
ব্যক্তিস্বাধীনতার লড়াইয়ে এটি নিঃসন্দেহে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক।












Click it and Unblock the Notifications