আট কোটি টাকা না পেয়ে প্রেমিককে সঙ্গে করে স্বামীকে খুন তেলেঙ্গানায়
মৃতদেহ নিয়ে ঘোরা ৮০০ কিমি। সঠিক জায়গায় মৃতদেহ ফেলতে হবে। সেই লক্ষ্যই ছিল৷ মৃত ব্যক্তি আর কেউ নন। ওই মহিলার স্বামী৷ স্বামীকে খুন করেছিলেন স্ত্রী৷ কারণ, আট কোটি টাকা। ঘটনার পরতে পরতে রহস্য৷ হাড়হিম করা ঘটনা তেলেঙ্গানায়।
শুধু তাই নয়, খুন হওয়া ব্যক্তির মৃতদেহ হাফিস করার জন্য কর্ণাটকে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। অক্টোবর মাসের শুরুতে এক ব্যক্তির অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল৷ কর্ণাটকের কোডাপু জেলার সুন্তিকোপ্পায় এই মৃতদেহ গত ৮ অক্টোবর পাওয়া যায়। সেই তদন্তে নেমেই হাড়হিম ঘটনা জানা গিয়েছে।

পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে একটি মার্সিডিজ গাড়ি লক্ষ্য করে। সেই গাড়ির সম্পর্কে খোঁজ করে দেখা যায় মালিকের নাম রমেশ নামে এক ব্যক্তি৷ তিনি তেলেঙ্গানায় থাকেন। পুলিশ আরও জানতে পারেন, রমেশ নিখোঁজ৷ থানায় ওই ব্যক্তির স্ত্রী নীহারিকা ডায়েরি করেছেন। রমেশের বয়স বছর ৪৫। আর নীহারিকা ২৯ বছরের৷
ঘটনার তথ্য পেতে নীহারিকাকে পুলিশ জেরা করতে শুরু করে। একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে৷ আরও চেপে ধরে পুলিশ। বেরিয়ে পড়ে সত্য। স্বামী রমেশকে স্ত্রী নীহারিকা ও তার প্রেমিক মিলে খুন করেছে। পরে সেই মৃতদেহ কর্ণাটকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ফেলার জন্য। কিন্তু কেন এমন কাজ করল তারা?
জানা গিয়েছে, নীহারিকার সঙ্গে অন্য এক পুরুষের প্রেম। এদিকে রমেশ বিত্তবান। রমেশের থেকে আট কোটি টাকা দাবি করেছিল নীহারিকা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন রমেশ। ১ অক্টোবর রমেশকে খুন করা হয়। তার প্রেমিকও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তেলেঙ্গানার উপ্পল এলাকায় এই খুন হয়। এরপর নীহারিকা ও সঙ্গী বাড়ি যায়। রমেশের বাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র, টাকা নেওয়া হয়।
গাড়িতে মৃতদেহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কর্ণাটকে। ওই চা বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই কম্বলে মুড়িতে দেহ পোড়ানো হয়। যদিও মৃতদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়নি৷ পরে জানা যায়। সকলে এরপর হায়দরাবাদে ফিরে আসে। স্বামী নিখোঁজ৷ এই অভিযোগ থানায় করেছিল নীহারিকা।
জানা গিয়েছে, এই নীহারিকার আগে বিয়ে ছিল৷ প্রথম পক্ষের বিয়েতে একটি সন্তানও হয়। এরপর স্বামী - স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ। আর্থিক প্রতারণার কারণে আগে নীহারিকা জেলও খেটেছে। ছাড়া পাওয়ার পর রমেশের সঙ্গে আলাপ ও বিয়ে। যদিও রমেশের সঙ্গে খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না। পরে আবার এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায় নীহারিকা। আর সেই ব্যক্তি এই খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।












Click it and Unblock the Notifications