ত্রিপুরায় কেন হারল তৃণমূল? বিস্ফোরক দাবি মমতা-অভিষেক ঘনিষ্ঠ এই নেতার
ত্রিপুরায় খাতাই খুলতে পারল না তৃণমূল! গত কয়েকমাস ধরে একেবারে মাটি কামড়ে সে রাজ্যে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ত্রিপুরায় খাতাই খুলতে পারল না তৃণমূল! গত কয়েকমাস ধরে একেবারে মাটি কামড়ে সে রাজ্যে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি একেবারে রাজধানী আগরতলাতে সভাও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু ২০১৮ সালের থেকেও খারাপ অবস্থা এবার ঘটল তৃণমূলের সঙ্গে।
কার্যত ত্রিপুরায় মুখ থুবড়ে পড়ল অভিষেক কারিশমা। আর এরপরেই বিস্ফোরক তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পীযূষকান্তি বিশ্বাস। যা নিয়ে তীব্র অস্বস্তি শাসক তৃণমূলে।

দুর্বলতাই হারের কারণ
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পীযূষকান্তি বিশ্বাস বলেন, প্রার্থী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হয়নি। এজন্যে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকেই দায়ি করেছেন তিনি। এছাড়াও ত্রিপুরায় তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাই হারের কারণ বলেও এদিন বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই তৃণমূল নেতা। বলেন, আমি যে সভাপতি। আমার কাছে সাংগঠনিক কোনও বিষয়ে আলোচনাই করা হয়নি। এমনকি প্রার্থী নিয়েও আলোচনা হয়নি বলে দাবি পীযূষকান্তি বিশ্বাসের।

আমাকে কোনও গুরুত্ব দেয়নি
শুধু তাই নয়, ত্রিপুরাতে এই মুহূর্তে যারা দায়িত্বে রয়েছে তাঁরা আমাকে কোনও গুরুত্ব দেয়নি বলেও অভিযোগ পীযূষকান্তি বিশ্বাসের। তবে কারোর নাম তিনি করতে চাননি। তবে ত্রিপুরা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট সিরিয়াস ছিলেন বলেও এদিন দাবি করেছেন সে রাজ্যের তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। এহেন বিস্ফোরক দাবির পরেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে স্পিকটি নট তৃণমূল নেতারা।

নোটার থেকেও কম ভোট
বিধানসভা নির্বাচনের গত কয়েকমাস আগেই সে রাজ্যে পুরভোট হয়! আর তাতেও তৃণমূল খাতা খোলে। আমবাসা পুর পরিষদের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। যদিও পরবর্তী কালে সে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু এরপরেও ভোট শতাংশের নিরিখে তৃণমূল যথেষ্ট ভালো জায়গাতে ছিল। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রিপুরাতে তৃণমূল কোনও খাতাই খুলতে পারল না। এমনকি নোটার চেয়েও কম ভোট পেয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা। শতাংশের হিসাবে নোটায় ১.৩৬ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। শতাংশে নিরিখে তৃণমূলের ভোটের হার ০:৮৯%। যা ২০১৮ সালের থেকেও খারাপ। সেই সময় 0.30 শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

বাংলার বাইরে সরকার গড়ার স্বপ্ন অধরাই
তৃণমূল সংসদে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল হয়েও আজও শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ। ২৫ বছর বয়স হয়ে গেল তৃণমূলের। তবু সাবালক হয়ে ভিনরাজ্যে যেতে পারল না। বাংলার বাইরে কোথাও নেই তৃণমূল। সিপিএম তাদের সুসময়ে তিন রাজ্যে দাপিয়ে সরকার চালিয়্ছে। আম আদমি পার্টিও দিল্লির পর দখল করেছে পঞ্জাব। কিন্তু তৃণমূলের বাংলার বাইরে সরকার গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।












Click it and Unblock the Notifications