ভোট হোক অথবা ফলাফল ঘোষণা, সবসময় এই বিশেষ দিনগুলিতেই প্রার্থনায় কেন মন দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় অংশগ্রহণ করলেন। এটি প্রথমবার নয় যখন কোনও নির্বাচনের দিন বা ফলাফলের দিন নীরব সময়ে প্রধানমন্ত্রী কোনও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক স্থানে সফর করছেন।
এর আগেও বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে এই ভূমিকায়। যা নিয়ে বিরোধীদের খোঁচাও শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবে ভোট গ্রহণের দিন হোক কিংবা ফলাফলের দিন, কার্যত এই ভাবেই আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করেছেন নমো।

- ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন
প্রধানমন্ত্রী মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের প্রতাপগড় দুর্গ পরিদর্শন করেন, যা ঐতিহাসিকভাবে মারাঠা রাজা শিবাজির বিজয়ের প্রতীক ছিল। এই শিবাজির কথা সেই বার নিজের ভাষণেও রেখেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সাংলিতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বলেছিলেন, "যুদ্ধের পাশাপাশি, শিবাজি স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন ভারত কেমন হওয়া উচিত, এর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি কেমন হওয়া উচিত।
মহারাষ্ট্রের এই ভূমিতেই স্বাধীন ভারতের একটি মডেল তৈরি হয়েছিল। এই ভূমিতেই তিনি জাতি গঠনের জন্য একটি পরীক্ষাগার স্থাপন করেছিলেন। এই সবকিছুই তিনি ৩৫০ বছর আগে করেছিলেন"। তাঁর এই ভাষণ এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রতাপগড় সফর, সব মিলিয়ে ওই বছরই শুরু হয়েছিল মোদী জমানা। ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৮২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন
সাত ধাপের নির্বাচনের শেষ দিকে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে মোদীর ধ্যান ও প্রার্থনার ছবি ভাইরাল হয়। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে "ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার" করে ভোট টানার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফলে, বিজেপি আগের চেয়েও ভালো ফল করে ৩০৩টি আসন জিতে ফের একবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপি সরকার গঠন করে।
- ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা ভোট
"অব কি বার, ৪০০ পার" স্লোগান দিয়ে নির্বাচনে গেলেও ২৪০টি আসনেই ২০২৪ সালে থামতে হয় বিজেপিকে। তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) ও জেডি(ইউ)-এর সমর্থনে এনডিএ সরকার গঠন হয় এই বার। তবে এই নির্বাচনেও, ভোটগ্রহণ চলাকালীনই মোদী বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করেন। রামেশ্বরমে বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালে ৪৫ ঘণ্টার ধ্যান করেন তিনি। সেখানেও নতুন রেকর্ড করেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
এছাড়াও লোকসভা নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও, তারপরই মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিয়ে মন্দির দর্শন করতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীকে। মহারাষ্ট্রের পোহারা দেবী মন্দিরে প্রার্থনা করেন তিনি। এমনকি গুজরাটের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের ২০০তম বার্ষিকী উদযাপনেও অংশ নেন তিনি। করেন, মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির দর্শন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরগুলি ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রভাবিত করার জন্য পরিকল্পিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, তবে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলছে যে ভোটের দিনে তাঁর এই সফর নির্বাচন বিধির পরিপন্থী কিনা। তবে এক্ষেত্রে কোনও রকম কোনও মন্তব্যই করতে দেখা যায়নি নির্বাচন কমিশনকে। স্বাভাবিক ভাবেই মোদী নিজের ধারা বজায় রেখেছেন। তাই তো আজও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের দিন উত্তরপ্রদেশের মহাকুম্ভ মেলায় সঙ্গম ঘাটে অমৃত স্নান সারলেন নরেন্দ্র মোদী। আর এবার দেখার বিষয়, দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এই সফরের কোনও প্রভাব পড়ে কিনা!












Click it and Unblock the Notifications