ভারতে করোনা গ্রাফের সংখ্যা কেন কমছে, কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা
সোমবার ভারতের করোনা সংক্রমণের হ্রাস পাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে কী জাগছে আশার আলো! কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই হ্রাসের পিছনে একটা বড় কারণ রয়েছে। অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। আবার অনেকেই কোভিড কীট কিনে বাড়িতে নিজেরাই পরীক্ষা করে নিয়েছেন। তাতে যদি কোন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হন তাহলে তিনি রিপোর্ট করে জানাচ্ছেন না।

গত কয়েকদিন মুম্বই ও দিল্লিতে করোনা গ্রাফ ক্রমশ নিম্নমুখী হতে দেখা গেছে। রবিবার ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের খবর মিলেছে ৩ লক্ষ ৬ হাজার। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন দেশে এখন কোভিড পরীক্ষা কম করানো হচ্ছে। দিল্লির ফোর্টিস হাসপাতালের সি ডকের চেয়ার ম্যান অনুপ মিশ্র জানান, বেশিরভাগ লোক এখন করোনা পরীক্ষা নিজেরাই করে নিচ্ছে। সোমবার রাজধানীতে একদিনে ৫,৭৬০ টি নতুন করোনা কেসের খবর পাওয়া গেছে। ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ১৯৭ জনের। মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৪। শহরে পজেটিভি রেট নিম্নমুখী হয়ে ১১.৭৯ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে করোনা গ্রাফের রিপোর্ট সর্বোচ্চ ছিল। আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৮৬৭ জন। মাত্র ১০ দিনে তা ক্রমশই নিম্নমুখী হয়ে ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
সিনিয়র এপিডেমিওলজিস্ট গিরিধর বাবু জানান, মুম্বতে করোনা কেস উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। অনেকেই বাড়িতে নিজেরাই পরীক্ষা করে রিপোর্ট করছে না, তাই এত সংখ্যাটা হ্রাস পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, করোনা পরীক্ষায় পজেটিভ হার কম দেখা যাচ্ছে। সোমবার দেশজুড়ে পজেটিভিটির হার ছিল ২০.৭৫%। আগের দিন ছিল ১৭.৭৮% । তিনি জিনোমিক সিকোয়েন্সিং পরীক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিতে বলছেন। ICMR তৈরি কিট Omisure- এর জন্য দেশের বিভিন্ন অংশে চালু করার ফলে করোনার নতুন রূপের সমস্ত লক্ষণ ও ক্লাস্টারগুলি সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে।
CSIR ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (IGIB)-এর ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল জানান, বড় বড় মেট্রো শহর গুলির থেকে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে করোনার রূপ। কিন্তু বর্তমানে করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী হচ্ছে। তিনি আশা করছেন ফেব্রুয়ারি মাসে একটা বড় পতন দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞ বলেছেন, IGIB হল Insacog-এর অংশ। জাতীয় কনসোর্টিয়াম যেটি করোনার জিনোমিক বৈচিত্রগুলি পর্যবেক্ষণ করে। দিল্লি ও মুম্বইতে করোনা গ্রাফ কমছে। ৪-৫ দিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগের রোগী ও ভর্তি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখ যোগ্য কমতে দেখা যাচ্ছে। জানিয়েছেন হেলথকেয়ারের গ্রুপ মেডিক্যাল ডিরেক্টর।












Click it and Unblock the Notifications