অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টরকে কেন বারেবারে টার্গেট করছে চিন, প্রশ্নে মোদী সরকারের ভূমিকা
অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টরকে কেন বারেবারে টার্গেট করছে চিন, প্রশ্নে মোদী সরকারের ভূমিকা
অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টরকে বারেবারে টার্গেট করছে চিন। এর ফলে চিন-ভারত সীমান্ত সমস্যা ও সংঘাতকে ঘিরে দু-দশরে মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। চিন বারবার প্রতিরোধের মুখে পড়েছে ঠিকই। কিন্তু সরে আসেনি আগ্রাসন থেকে।

আবার ভারতও এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি। চিন অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরের ইয়াংতসেকে টার্গেট করেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে তারা বারবার এই এলাকায় ঢুকে পড়েছে। ভারতের প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা কেরে যা্চ্ছে। মোদী সরকারের আমলে বিগত চার-পাঁচ বছরে এই সমস্যা বেড়েছে।
চিন ও ভারতের সেনা কর্তারা যখন গত বছর পূর্ব লাদাখে স্থিতাবস্থা ফেরাতে বৈঠকে ব্যস্ত, থখন চিনের লাল ফৌঁজ তাওয়াং সেক্টরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় সীমান্ত রেখায় ঢুকে তা দখলের চেষ্টা করেছিল। ২০২১-এর অক্টোবরে তাওয়ংয়ের ইয়াংটসেতে শতাধিক লাল ফৌজ হামলা চালায়।
ভারতীয় বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। ফলে সীমান্ত থেকে সরে যেতে তারা বাধ্য হয়। এরপর সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও আবার এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই যেভাবে এই এলাকাকে টার্গেট করল লাল ফৌজ, তাতে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট বেজিংয়ে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।
তাওয়াং সেক্টরে ভারতীয় সেনাদের আধিপত্য রয়েছে। তাই বারবার ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে যাচ্ছে লাল ফৌজ। ভারতীয় সেনাদের চক্রব্যুহ ভাঙতে তারা ব্যর্থ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বারবার আক্রমণের প্রশ্ন উঠছে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে। মোদী সরকার কূটনীনৈতিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে চিনের মোকাবিলায়। তাই বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে।
ভারতীয় সেনাদের কাছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পরাজিত হয়ে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু সীমান্ত সংঘাত লেগেই রয়েছে। ২০১৬ থেকে প্রায় আড়াইশো চিনা সেনা ওই এলাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু একর ইঞ্চিও এগোতে দেয়নি ভারতী সেনা। ভারত-চিনের ৩৪৮৮ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা রয়েছে। সেখানে অন্তত ২৫টি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল রয়েছে। তার মধ্যে তাওয়াং সেক্টরের ইয়াংটসে বারবার আক্রমণের মুখে পড়ছে।
ইয়ংটসে নিয়ে বিবাদ সেই ১৯৯০ সালে থেকে। দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ঠিক হয়েছিল ২০০০ সালের মঘ্যে সেক্টরের মানচিত্র বিনিময় শেষ করা হবে। সেখানে ইয়াংটসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিবাদ রয়েই গিয়েছে। ২০০২ সালে আবার লাদাখ সীমান্তের মানচিত্র নিয়ে চিন বেঁকে বসে। মানচিত্র বিনিময় করতে অস্বীকার করে। সমস্যার বীজ সেখানেই পোতা হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications