আধার কার্ড না থাকলে তেলঙ্গানার এই গ্রামে প্রবেশ নিষেধ, পিছনে রয়েছে দারুণ এক গল্প
আধার কার্ড না থাকলে তেলঙ্গানার এই গ্রামে প্রবেশ নিষেধ
ভারত সত্যিই একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কোণায় কোণায় রয়েছে আজব আজব নিয়ম। যা হয়ত সকলে জানেন না। সেরকমই একটি নীচু জাতির গ্রাম রয়েছে তেলঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায়। এই গ্রামে বহিরাগতদের প্রবেশের জন্য বিশেষ একটি নিয়ম রয়েছে। বহিরাগতদের এই গ্রামে ঢুকতে গেলে নিজেদের পরিচিতি প্রমাণ করার জন্য আধার কার্ড দেখাতে হবে। এই নিয়ম গত দশ বছরে চলে আসছে এবং এটি তৈরি করেছিল গ্রামের প্রধান, পঞ্চায়েতের সদস্য ও গ্রামবাসীরা মিলে। একজন বহিরাগতকে অবশ্যই আধার কার্ড জমা দিতে হবে গ্রামের বাইরে সচিবালয়ে এবং ব্যক্তিগত তথ্য জানাতে হবে।

অধিকাংশ গ্রামবাসী কৃষক
ছোট গ্রাম পেড্ডা পোথাঙ্গালের জনসংখ্যা প্রায় ২,৫০০ জন। জীবিকা নির্বাহের জন্য এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। গ্রামবাসীরা সকালে তাঁদের বাড়িতে তালা গিয়ে মাঠে কাজের জন্য বেরিয়ে পড়েন, কাজ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। আধার কার্ড জমা দেওয়ার এই নিয়মের পেছনে একটি কারণ রয়েছে।

কারণ কি
স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে বহু বছর আগে এক ব্যক্তি গেরুয়া বসন পরিধান করে এবং গোটা শরীরে বিভূতি মেখে দুপুরের সময় গ্রামে প্রবেশ করে। তিনি গ্রামের একটি বাড়িতে গিয়ে একা মানুষকে পেয়ে নিজেকে স্বামীজি বলে পরিচয় দেয়। ওই ব্যক্তির পোশাক ও আচরণ দেখে গ্রামবাসী তাঁর কথা বিশ্বাস করে নেন। এরপর ওই স্বামীজি গ্রামবাসীকে দিয়ে বাড়ির শান্তি, সুস্বাস্থ্য, সম্পত্তি বৃদ্ধি ও ভালো ভবিষ্যতের জন্য পুজো করান। এই পুজোর জন্য স্বামীজি ওই গ্রামবাসীর থেকে সোনার গয়না চায় এবং কিছু ভগবানের ছবি সামনে রাখতে বলে। স্বামিজী এরপর জানায় যে পুজোর পর এই গয়না দ্বিগুণ হয়ে যাবে এবং বোকা গ্রামবাসী সেই কথাই বিশ্বাস করে নেন।

স্বামিজী সহ গয়না গায়েব
এরপর ওই গ্রামবাসী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির জন্য কিছু আনতে ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন। কিন্তু যখন তিনি ফিরে আসেন তখন দেখেন যে স্বামিজীও নেই আর সোনার গয়নাও গায়েব। স্থানীয়রা ওই স্বামীজিকে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুজে পায় না। এরপরই গ্রামবাসীরা এই স্ক্রিনিং পদ্ধতির চালু করে এবং আধার কার্ড বহিরাগতদের জন্য বাধ্যতামূলক করে দেয়। এমনকী আধার কার্ড দেখানোর পরও গ্রামবাসীরা ওই বহিরাগতর ওপর নজর রাখেন যতক্ষণ সে পেড্ডা পোথাঙ্গাল গ্রামে রয়েছে। সেটা কোনও গ্রামবাসীর আত্মীয়ই হোক বা হকার অথবা কোনও ফেরিওয়ালা।

চুরি বা প্রতারণা বন্ধ গ্রামে
গ্রাম ছাড়ার পর বহিরাগতরা তাদের আধার কার্ড সংগ্রহ করে নিতে পারেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে চুরি বা প্রতারণার কোনও ঘটনা গ্রামে ঘটেনি।












Click it and Unblock the Notifications