খুচরো বাজারের পাশাপাশি স্বস্তি পাইকারি ক্ষেত্রেও, জুলাই মাসে মুদ্রাস্ফীতি কমে ১৩.৯৩ শতাংশ
খুচরো বাজারের পাশাপাশি স্বস্তি পাইকারি ক্ষেত্রেও, জুলাই মাসে মুদ্রাস্ফীতি কমে ১৩.৯৩ শতাংশ
খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতি কমার সঙ্গে সঙ্গে জুলাই মাসে পাইকারি বাজারেও মুদ্রাস্ফীতি বেশ খানিকটা কমেছে। খাদ্য সামগ্রী ও উৎপাদিত পণ্যের দাম কিছুটা কম করার জেরে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১৩.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। যেখানে জুন মাসে পাইকারি মূল্য সূচক ভিত্তিতে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১৫.১৮ শতাংশ। মে মাসে ছিল ১৫.৮৮ শতাংশ।

কমেছে সবজি ও তেলের দাম
মে মাসে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড পরিমাণ ছিল। তবে জুন ও জুলাই পর পর দুই মাসে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতির পতন লক্ষ্য করা যায়। যা যথেষ্ঠ স্বস্তির খবর। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই বেশি ছিল। গত বছর জুলাইয়ে এটি ছিল ১১.৫৭ শতাংশ। জুলাই মাসে খাদ্য সামগ্রীর মুদ্রাস্ফীতি ১০.৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে। জুন মাসে ছিল ১৪.৩৯ শতাংশ। জুলাই মাসে সবজির মূল্য বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। জুন মাসে সবজির মুদ্রাস্ফীতি যেখানে ছিল ৫৬.৭৫ শতাংশ। জুলাই মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮.২৫ শতাংশ। জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। জুন মাসে ৪৩.৭৫ শতাংশের তুলনায় জুলাই মাসে তা দাঁড়িয়েছে ৪০.৭৫ শতাংশ।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মহল
সিআরসিএল এলএলপির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডিআরই রেড্ডি জানিয়েছেন, খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি ও সবজির দাম বেড়ে যাওয়াই মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ। তবে গত দুই মাস ধরে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমছে। তবে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি এখনও অনেকটা বেশি রয়েছে। গত ১৫ মাস ধরে টানা দুই অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে পাইকারি বাজারে। তার প্রভাব খুচরো ব্যবসার ক্ষেত্রে পড়ছে। ধাতু, অপরিশোধিত তেল ও সারের চাহিদা আগের থেকে বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু জোগান চাহিদার তুলনায় কম। সেই কারণেই মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে। যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি কমছে। চলতি গ্রীষ্মে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি আগের থেকে পণ্য সরবরাহ অনেকটা সহজ হয়েছে। যার ফলে ডাব্লিউপিআই মুদ্রাস্ফীতি অনেকটা কমেছে।

খুচরো বাজারেও কমেছে মুদ্রাস্ফীতি
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মূলত খুচরো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মুদ্রা নীতি নির্ধারণ করে। জুলাই মাসে রিটেল বা খুচরো ব্যবসার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৭১ শতাংশ। জুন পর্যন্ত রিটেলের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের বেশি ছিল। খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে আরবিআই চলতি বছরে তিন বার সুদের হার বাড়িয়ে ৫.৪ শতাংশ করেছে। আরবিআই মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তার কাছাকাছি পৌঁছবে। মনে করা হচ্ছে, আগামী বছরের জনুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের আশেপাশে পৌঁছবে।












Click it and Unblock the Notifications