মনিপুরে জাতিগত বিরোধের জন্য দায়ী কে বা কারা? উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই নতুন করে হিংসা শুরু হয়েছে মনিপুরে। এখনও পর্যন্ত সেখানে জাতিগত বিরোধে ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই -জাতিগত বিরোধ কেন, তা জানতে গিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
দীর্ঘদিন মনিপুরে কাজ করে আসা এক সেনা আধিকারিকের মতে উত্তর-পূর্ব ভারতে মনিপুরের মতো রাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলির পিছনে জটিল ইতিহাস রয়েছে। মনিপুরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পিছনে রয়েছে, সেখানকার দীর্ঘদিনের জাতিগত দ্বন্দ্ব। যা রাজনৈতিক ভাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

মনিপুরের সমস্যার পিছনে রয়েছে বিভিন্ন জাতিগুলির বৃহত্তর এলাকা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি। নাগা, কুকি ও মেইতেইরা কমবেশি দাবি তুলেছে। নাগারা মনিপুরের কিছু অংশকে নাগাল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর নাগাল্যান্ড গঠন করতে চাইছে। অন্যদিকে মনিপুরের বৃহত্তম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী মেইতেইরা বৃহত্তর নাগাল্যান্ড গঠনের বিরোধিতা করে আসছে।
রাজ্যের ওপর বড় জাতি কুকিরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। কিছু কুকি নাগাদের বৃহত্তর রাজ্যের দাবি সমর্থন করেছে। কিন্তু অন্যরা তার বিরোধিতা করেছে। বছরের পর বছর ধরে সংঘাতের পিছনে যেমন জাতিগত ও ভফাষাগত পার্থক্য রয়েছে, তেমনই সেখানকার সম্পদ ও ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মনিপুরে বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীগুলি একে অপরের সঙ্গে কিংবা নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক যে অস্থিরতা মনিপুরে চলছে, তার শুরুটা ২০২১ সালের গোড়ার দিকে। রাজ্য সরকারের সাতটি নতুন জেলা তৈরির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীগুলি।

নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীগুলি অভিযোগ করে, তাদের শক্তিকে দুর্বল করতেই সরকার সেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি কোথাও একে অপরের সঙ্গে আবার কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। যার জেরে ৫৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
মনিপুরের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুশীলনের ভিত্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বসবাস করে। সেখানকার পার্বত্য জেলাগুলি রাজ্যের মোট ৯০ শতাংশ জমি নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে সমতলভূমি রয়েছে ১০ শতাংশ। সেখানেই জনসংখ্যার অধিকাংশের বাস।

মনিপুরের বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে একদিকে যেমন ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দ্বন্দ্ব রয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্যও প্রতিযোগিতা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রকৃতি ও তীব্রতা পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিভিন্ন উপজাতি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
মনিপুরে বর্তমান সংঘর্ষের শুরু মেইতেই সম্প্রদায়ের তফশিলি উপজাতি মর্যাদার দাবি নিয়ে। এই দাবির প্রতিবাদ করে ৩ মে দশটি পার্বত্য জেলায় উপজাতি সংহতি মার্চ হয়, তারপরেই সেখানে হিংসা শুরু হয়ে যায়। ১০ বছরের পুরনো এই দাবি নিয়ে হাইকোর্টের একটি আদেশের জেরে হিংসার শুরু। যা এখনও চলছে।












Click it and Unblock the Notifications