কে এই ‘ছদ্মবেশী’ কিরণভাই প্যাটেল? জম্মু-কাশ্মীরে জেড প্লাস নিরাপত্তার ভিডিও ভাইরাল
জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দফতরের কর্মী পরিচয় দিয়ে জেড প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরেছেন, পাঁচতারা হোটেলে কাটিয়েছেন, বুলেটপ্রুফ মাহিন্দ্রা স্করপিও এসইউভি-তে চড়েছেন, আবার জম্মু-কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি অফিসিয়াল বৈঠকও করেছেন এই ছদ্মবেশী কিরণভাই প্যাটেল। তিনি আসলে কে? গ্রেফতারের পরেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কিরণভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে 'পিএমও টিম' কাশ্মীর সফর করছে জম্মু ও কাশ্মীর সিআইডির একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২ মার্চ প্যাটেল গ্রেফতার হন কিরণভাই। প্রায় পাঁচ মাস ধরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ-প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে আসছে কিরণভাইয়ের টিম।

কিরণভাই প্যাটেল নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আর এই মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং এমনকী নিয়ন্ত্রণরেখার নিকটবর্তী অঞ্চলে পরিদর্শন করেছেন এবং উরি সেক্টরে সেনাদের সঙ্গে তাঁর ছবিও পোস্ট করেছেন।
ছদ্মবেশী প্রতারক কিরণভাই প্যাটেলের পরিচয় কী, আসলে কে এই কিরণভাই প্যাটেল? কিরণভাই প্যাটেল প্যাটেল গুজরাটের বাসিন্দা। তাঁর টুইটার বায়ো অনুযায়ী তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন। আইআইএম ত্রিচি থেকে এমবিএ করেছেন।
এখানেই শেষ নয়, এই প্রতারক এম টেক (কম্পিউটার সায়েন্স) এবং বিই কম্পিউটার (এল ডি ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রিধারী বলেও টুইটার বায়োতে জানানো হয়েছে। তিনি নিজেকে 'চিন্তাবিদ, কৌশলবিদ, বিশ্লেষক এবং প্রচারাভিযান ম্যানেজার' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর একটি স্বীকৃত টুইটার অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

এই কিরণভাই প্যাটেল দাবি করেন, তাঁকে দক্ষিণ কাশ্মীরের আপেল বাগানের বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই দায়িত্ব পালনে তিনি তাঁর টিম নিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু কিরণভাই প্যাটেল সন্দেহের তালিকায় পড়েন, যখন জম্মু ও কাশ্মীরের এক সিনিয়র আধিকারিক তাঁকে তাঁর সঙ্গে বড়গাম জেলায় একটি কর্মসূচিতে যেতে বলেছিলেন।
নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারে একজন 'অতিরিক্ত সচিব' বলে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। এইভাবে জম্মু ও কাশ্মীরে পাঁচ মাস কাটানোর পর তাঁর ছদ্মবেশ খসে পড়ে। তাঁকে শ্রীনগরের একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁর কাছে কোনো ভিআইপি ছিল না। ২ মার্চ বিমানবন্দরে নামার পর নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হয়।
এরপর বিমানবন্দরে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ফলপ্রসূ হয়নি। কারণ হোটেলে যাওয়ার পথে তিনি বুলেট-প্রুফ গাড়িতে উঠেছিলেন। তারপর হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জেরা করে তাঁর কাছ থেকে জাল পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়।












Click it and Unblock the Notifications