দুর্নীতিগ্রস্ত জিতনরাম মঞ্ঝিকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে নীতীশের এক ঢিলে ৩ পাখি

সেভাবে কোনওদিনও বিহার রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায়নি মঞ্ঝিকে। বলতে গেলে গণমাধ্যমের কাছেও স্বল্প পরিচিত মঞ্ঝি। ২০০৫ সালে নীতীশ কুমারের ক্যাবিনেটে ঢোকেন তিনি। নীতিশ সরকারের তফসিলি জাতি ও উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন জিতনরাম। মঞ্ঝি মুসাহার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই সম্প্রদায় ইঁদুর খাওয়ার জন্য পরিচিত।
২০১০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ বিহারের মাখদুপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন মঞ্ঝি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসের হাত ধকে। ১৯৮০ সালে চন্দ্রশেখর সিং সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। এর পর তিনি লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে লালুর নেতৃত্বাধীন সরকারে শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী হন মঞ্ঝি। এই সময় বিএড জাল ডিগ্রি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় মঞ্ঝির। এর পর তাকে পদ থেকে সরানো হয়।
জাল মার্কশিট কান্ড ও শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে ছিল জিতনরাম মঞ্ঝির
মঞ্ঝি এবং শিক্ষা দফতরের উচ্চ এক আধিকারিক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৪০,০০০ জাল ডিগ্রি বিতরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ছিলেন, লালু ঘণিষ্ঠ জয়প্রকাশ নারায়ণ যাদব যিনি দফতরে পদমর্যাদায় মঞ্ঝির উপরে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে মঞ্ঝি-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। মঞ্ঝি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এর পর তাঁর জামিন মঞ্জজুর করা হয়।
২০০৫ সালে সংযুক্ত জনতা দলে যোগ দেন জিতনরাম মঞ্ঝি। বারাচাট্টি কেন্দ্র থেকে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ীও হন তিনি। তাঁকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে গণ্য করেন নীতীশ কুমার। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে মঞ্ঝির জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁকে জোর করে ইস্তফা দেওয়ানো হয়। ২০০৮ সালে আদালত তার দোষ ক্ষালন করে। সবে শেষ হওয়া লেকসভা নির্বাচনে বিজেপির হরি মঞ্ঝির কাছে গয়া থেকে হেরে গিয়েছেন মঞ্ঝি। শুধু হারাই নয়, ভোটের নিরিখে তৃতীয় স্থানে ছিলেন তিনি।
এমন একজন প্রার্থীকে কেন বিহারের রাজ্যপাট দিলেন নীতীশ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পুরোটাই নীতীশ কুমারের কুটনীতি। হারের নৈতিক দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করে জনতার সহমর্মিতা পেতে চাইছেন নীতীশ। একইসঙ্গে নিজের ঘণিষ্ঠ মঞ্ঝিকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়ে রাজ্যপাটের রাশ নিজের হাতেই রাখলেন নীতীশ। তার উপরে মঞ্ঝিতে মুখ্যমন্ত্রী করে সংশ্লিষ্ট বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটও মজবুত করতে চাইছেন নীতিশ।












Click it and Unblock the Notifications