বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা নয়! একের পর এক কারণ তুলে ধরে JDU সাংসদকে জবাব অর্থ প্রতিমন্ত্রীর
বাজেটের আগে বিহারের জেডিইউ সাংসদরা কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের জন্য বিশেষ মর্যাদার দাবি করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এনডিএ ভুক্ত দল বিহারের বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার দাবিকে সমর্থনও করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার যখন জেডিইউ-এর সাংসদ রামপ্রীত মণ্ডল সরকারের সামনে প্রশ্ন রাখেন, সেই সময় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিহারের জন্য বিশেষ মর্যাদার দাবি মানদণ্ডে খাপ খায় না।
বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে রবিবার সর্বদল বৈঠকে জেডিইউ নেতারা বিহারের জন্য বিশেষ মর্যাদার দাবি করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, সরকার যদি মনে করে এটা করতে সমস্যা আছে, তাহলে তারা বিহারের জন্য দুটি প্যাকেজের দাবি করছেন। যা সরকারের সামনে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছিল জেডিইউ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
এদিন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী ব্যাখ্যা করে বলেছেন, কেন বিহার বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা পাবে না। তিনি সেখানে পাঁচ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। গত কয়েক বছরে জাতীয় উন্নয়ন পরিষদের বৈঠকে পরিকল্পনা সহায়তার জন্য কিছু রাজ্যকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে যেই রাজ্যগুলিকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলির জন্য মানদণ্ড ছিল। সেই মানদণ্ডের নিরিখে বিহার খাপ খায় না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
বিশেষ রাজ্যের মর্যাদার মানদণ্ড কী?
- পার্বত্য ও দুর্গম ভূখণ্ড।
- কম জনসংখ্যার ঘনত্ব কিংবা আদিবাসী জনসংখ্যার ঘনত্ব
- প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সীমান্তে কৌশলগত অবস্থান
- অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত পিছিয়ে পড়া
- রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের অকার্যকর প্রকৃতি
আরজেডির নিশানায় কেন্দ্র
কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যক্তব্য কটাক্ষ করেছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল। এক্স হ্যান্ডেলে তারা বলেছে কেন্দ্রে মোদী সরকার থাকতেও বিহার বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা পাবে না। নীতীশ কুমার ও জেডিইউ-এর লোকেরা কেন্দ্রে ক্ষমতা উপভোগ করবে। তারা বিশেষ মর্যাদা নিয়ে কপট রাজনীতি করছে বলেও কটাক্ষ করেছে আরজেডি। আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব বলেছেন, নীতীশ কুমার বলেছিলেন, বিহারকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা না দিলে তিনি পদত্যাগ করবেন। এখন কী করবেন নীতীশ কুমার, সেই প্রশ্ন তিনি করেছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিহারের জেডিইউ সরকার আগে থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। তারা রাজ্যে নটি নতুন বিমানবন্দর, দুটি বিদ্যুৎ প্রকল্প, সাতটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে চায়। এর জন্য তারা কেন্দ্রের কাছ থেকে সাহায্যের দাবিতে সবর হবে।
তবে শুধু জেডিইউই নয়, টিডিপিও সরকারের কাছে তাদের রাজ্যের জন্য আর্থিক প্যাকেজের দাবি করেছে। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য নিঃশর্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করার দাবি করেছে তারা। টিডিপি অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী শহর এবং একটি সেচ প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য টাকা চেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications