খাবার কই? পানীয় জল কোথায়? সব হারিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে উত্তর সিকিমের মানুষের মধ্যে

বিপর্যয় ঘটিয়ে এখন শান্ত তিস্তা। সেই রাক্ষুসে গতি আর তার নেই। জলের স্তরও অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য সেনাবাহিনী নেমেছে। কিন্তু দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর মতো অবস্থা এখনও হয়ে ওঠেনি৷ শুক্রবারও হেলিকপ্টার ওড়ানো সম্ভব হয়নি। শনিবার আবহাওয়া আরও পরিষ্কার হওয়ার আশা। আকাশ পরিষ্কার হলে দুর্গম এলাকায় কপ্টার উড়ে যাবে বলে খবর।

এদিকে বিপর্যয়ের পর তিন দিন কেটে গেল। বহু মানুষ আটকে পড়েছেন উত্তর সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তে। সাধারণ মানুষ তো আছেনই, বহু পর্যটকও আটকে আছেন। খাবার নেই, পানীয় জল নেই৷ বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ক্ষোভ। কবে তাদের উদ্ধার করা হবে? সেই নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে দুর্গতদের মধ্যে।

সব হারিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে উত্তর সিকিমের মানুষের মধ্যে

বিপর্যয়ের রেশ কাটিয়ে উঠছে উত্তর সিকিম। আর সেখানেই ভয়াবহ সব ছবি ভেসে উঠছে। কাঠের বাড়িঘর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে আগেই৷ ছোটবড় গাড়িও আর নেই। তিস্তার পাড়ের কাছাকাছি যে সব ইমারত ছিল, সেগুলিও ভেঙে গিয়েছে। তুলনামূলক দূরের বাড়িগুলি অক্ষত। কিন্তু সেইসব বাড়ি আর বসবাসের উপযুক্ত নেই৷ একতলা বাড়ি সবই প্রায় কাদামাটির তলায় আটকে আছে।

দুই- তিন তলা বাড়িগুলির এক - দেড়তলা অবধি কাদামাটিতে সম্পূর্ণ আটকে। মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। তারা ফিরে এলেও বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না। বাড়ির মধ্যে যাবতীয় জিনিসপত্র আটকে জলের তোড়ে নষ্ট হয়েছে। লাচুং, লাচেন সহ একাধিক জায়গায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে বহু পর্যটক আটকে রয়েছেন। শনিবার বেলা পর্যন্ত খবর, ওইসব এলাকায় উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়নি।

মঙ্গন এলাকায় সেনাবাহিনী পৌঁছেছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলও কাজ শুরু করেছে। লাচুং, লাচেন, মঙ্গন এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের ভরসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু ভরসায় কতদিন চলবে? সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ অতি সামান্য। বহু জায়গায় সেইসবও পৌঁছায়নি। পানীয় জলেরও বড় সমস্যা দেখা গিয়েছে।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী রংপো, সিংটামের ত্রাণ শিবিরে গিয়েছিলেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে ত্রাণ বিষয়ে ক্ষোভ ফেটে পড়েন দুর্গতরা। মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই টাকা মৃতদের তালিকা তৈরির পর পরিবারকে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় সেজন্য যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বহু জায়গাতেই সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর তরফে মেডিক্যাল ক্যাম্প শুরু হয়েছে। কিন্তু দুর্গম এলাকায় এখনও সেইসব করা সম্ভব হয়নি। খাবার কই? পানীয় জল কোথায়? হাহাকার মানুষের মধ্যে। তিস্তার জলে সিকিম পুষ্ট হয়৷ তিস্তাই এই রাজ্যের লাইফলাইন। আজ সেই তিস্তাই সব ভাসিয়ে দিয়েছে। হাহুতাশ সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+