Manmohan Singh: নোটবন্দি নিয়ে মোদীকে বিচক্ষণতার পাঠ পড়ান মনমোহন, রাজ্যসভায় কী বলেছিলেন ভাষণে?
Manmohan Singh on Demonetisation: ২০১৬ সালে মোদী সরকারের নোটবন্দির পদক্ষেপ আজও বহুচর্চিত। রাতারাতি বাতিল হয়ে যায় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। নোটবন্দির পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধীরা। রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-ও।
মোদীর নোটবন্দির সিদ্ধান্ত বিরাট মাপের বিপর্যয় (monumental mismanagement) বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এমন সিদ্ধান্ত আসলে 'ছুরি দিয়ে গলা কাটার মতো' বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। দেশের আমজনতার উপর চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে নোটবন্দির সিদ্ধান্ত, ২০১৬-তেই বলেছিলেন মনমোহন। এমনকী, দেশের জিডিপিও ২ শতাংশ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছিলেন মনমোহন সিং।

রাজ্যসভায় মনমোহন ভাষণের শুরুতেই সেবারে বলেছিলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী যে উদ্দেশ্য (Objectives) নিয়ে নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার বিরোধিতা আমি করছি না। তবে নোটবন্দির নামে চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে। যারা বলছেন এর ফলে কিছুদিনের জন্য নামমাত্র সমস্যা হবে, তাদের ভবিষ্যতের কথাও মাথায় রাখা উচিত।"
সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগে গুরুত্ব না দিয়েই রাতারাতি নোটবন্দির ঘোষণা তাদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল বলে দাবি করেন মনমোহন। বলেন, "৫০ দিন অপেক্ষা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মেনে নিলাম ৫০ দিন কম সময়। কিন্তু যারা হতদরিদ্র, তাদের কাছে ৫০ দিনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আর তাই ৬০ থেকে ৬৫ জন ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। এর ফলে দেশের বর্তমান সরকার ও অর্থব্যবস্থার উপর মানুষ আস্থা হারাবেন।"
সার্বিক উন্নয়নের নামে নোটবন্দি করে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন মনমোহন সিং। কৃষিক্ষেত্রে, ছোট শিল্পে ও অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলিতে বৃদ্ধির হারে নোটবন্দি আঘাত হানবে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদী উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, "সরকারের উচিত সমস্যা নিরসনের কথা আগাম ভেবে নিয়ে তবেই এধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা।"
খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বলে আক্ষেপ করেছিলেন মনমোহন সিং। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর উপর মানুষ আস্থা হারাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। মনমোহন বলেন, "আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ লোকই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত। ৫৫ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে যুক্ত। নোটবন্দির জেরে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তারা।"
নোটবন্দি চলাকালীন গ্রামাঞ্চলে সমবায় সমিতিগুলির টাকা লেনদেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন মনমোহন। আর এসমস্ত কারণ দর্শিয়ে বলেন, যেভাবে নোটবন্দি প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে করে এটি সরকারের বিরাট ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। সংগঠিত লুঠ বলেও তোপ দাগেন মনমোহন।
রাজ্যসভার সেই ভাষণে পরিশেষে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, "আমার কাজ এদের ওদের ভালো মন্দ বিচার করা নয়। তবে আমি আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেষ মুহূর্তে হলেও নোটবন্দির ফলে মানুষের দুর্দশার চিত্রটা দেখবেন ও এরপরে বাস্তবসম্মত উপায়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন।"
প্রসঙ্গত, ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বৃহস্পতিবার দিল্লি এইমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সব চিকিৎসা ব্যর্থ করে চিরঘুমে মনমোহন সিং।












Click it and Unblock the Notifications