বাজপেয়ী কলকাতায় উঠতেন বিশেষ এক বাড়িতে! পছন্দের তালিকায় থাকত বাংলার মিষ্টি, খেয়েছেন ফুচকাও
প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। দিল্লির এইমস-এ প্রয়াত হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ নয় সপ্তাহ ধরে এইমস-এ ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে স্মরণ করেছেন কলকাতার ব্যবসায়ী কমল বেরিওয়ালা। কেননা কলকাতায় আসলে সিআর এভিনিউতে বেরিওয়ালা হাউসেই উঠতেন বাজপেয়ী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে পর্যন্ত তাই করেছিলেন তিনি। কমল বেরিওয়ালার স্ত্রী স্মরণ করেছেন বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে ফুচকা খাওয়ার কথা।

১৯৫৬ সালে দিল্লিতে কলকাতার ব্যবসায়ী ঘনশ্যাম বেরিওয়ালার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর। জনসংঘ করার জন্যই এই আলাপ হয়েছিল। এরপর থেকে কলকাতায় আসলেই ১৬৭ চিত্তরঞ্জন এভিনিউ-এর বেরিওয়ালা হাউসেই উঠতেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। বাড়ির কর্তা ঘনশ্যাম বেরিওয়ালাই শুধু নন, বাড়ির সবার সঙ্গেই যেন আত্মীয়তার সূত্রেই বাজপেয়ীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। স্মরণ করেছেন ঘনশ্যাম বেরিওয়ালার ছেলে কমল বেরিওয়ালা।
পাঁচতলা বাড়ির একটি ঘর আজও নির্দিষ্ট করে রাখা রয়েছে। যে ঘরের কোনও আসবাবের সেরকম কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কেননা সেই ১৯৫৬ সাল থেকে বছরে দু থেকে তিনবার কলকাতা আসলে ওই বাড়ি আর ওই ঘরেই উঠতেন তিনি। থাকতেন তিন থেকে চারদিন। ঘরে রাত্রিবাস আর পড়াশোনা চললেও, পাশের একটি হল ঘরে দলের কর্মী-নেতাদের সঙ্গে কথা বলতেন বলে জানিয়েছেন কমল বেরিওয়ালা। শোয়ার ঘরে পবিরারের সদস্যরা ছাড়া কারও সঙ্গেই কথা বলতেন না।
ব্যবসায়ী কমল বেরিওয়ালা জানিয়েছেন, সেই সময় তাঁদের স্কুল জীবনে বাড়িতে আসা অটলবিহারী বাজপেয়ীর কথা।
কমল বেরিওয়ালা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে ১৩ দিনের প্রধানমন্ত্রীত্বের পরে অসুস্থ বাবা ঘনশ্যাম বেরিওয়ালাকে দেখতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। শেষবার ওই বাড়িতে পা পড়েছিল ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রোটোকল গত কারণে আর আসা হয়নি। তবে কলকাতায় আসলে এয়ারপোর্ট হোক কিংবা অন্য কোথাও, এই বেরিওয়ালা পরিবারের জন্য আলাদা করে সময় বরাদ্দ থাকত।
কমল বেরিওয়ালার স্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯৮০ সালে ওই বাড়িতে বিয়ে হয়ে আসার পর তিনি দেখেছেন অটলবিহারী বাজপেয়ীর পছন্দের তালিকায় থাকত একেবারে সাধারণ খাবার। তবে কলকাতার সন্দেশ, রসগোল্লা আর মিষ্টি দই খুব পছন্দ করতেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
কমল বেরিওয়ালার স্ত্রী স্মরণ করেছেন, তাদের সঙ্গে ফুচকা খাওয়ার কথা। তিনি জানিয়েছেন, একদিন বাড়ির মেয়েরা ফুচকা খাচ্ছিলেন। সেই সময় সামনে চলে আসেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। সেই সময় তাঁকে অনুরোধ করতেই তিনি রাজি হয়ে যান। বিরল সেই ছবি তুলেও রেখেছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এতদিন সামনে আনেননি সেই ছবি।












Click it and Unblock the Notifications