দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা, তবে সুরক্ষা বজায় রয়েছে; হোয়াটসঅ্যাপ বিতর্ক প্রসঙ্গে কেন্দ্র
ভারত সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের উপর আড়ি পাতার চেষ্টা করা নিয়ে গোটা বিশ্ব তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এরই মধ্যে কেন্দ্র জানিয়ে দিল এর জেরে দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়নি।
ভারত সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের উপর আড়ি পাতার চেষ্টা করা নিয়ে গোটা বিশ্ব তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এরই মধ্যে কেন্দ্র জানিয়ে দিল এর জেরে দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়নি। গতরাতে এই বিষয়ে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিঙ্কর প্রসাদ বলেন, "ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই বিষয়টা হয়েছে।" এ ধরনের আড়ি পাতা বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর চেষ্টার পর হোয়াটসঅ্যাপ আরও কড়া পদক্ষেতপ নেবে বলে জানা গিয়েছে। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট আর কি করে সুরক্ষিত করা যায়, এখন সেই চেষ্টাই চালাচ্ছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। এদিকে হোয়াটসঅ্যাপের থেকে এই বিষয়ে ৪ নভেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র।

২০টি দেশের ১৪০০ জন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী ছিল নিশানায়
ভারতের পাশাপাশি আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্যের দেশ এবং আমেরিকাকার বহু হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী এই আড়ি পাতার নিশানায় ছিলেন বলে জানা গেছে। ইজরায়েলি এক সংস্থা ২০টি দেশের প্রায় ১৪০০ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এক স্পাইওয়্যার ঢোকানোর চেষ্টা করেছিল বলে গতকাল এক রিপোর্ট প্রকাশ পায়। সেই সংস্থার নিশানায় ছিল ভারতীয় সাংবাদিক, কূটনীতিক, শীর্ষ সরকারি আধিকারিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের আধিকারিকরা। তবে নজরদারির পিছনে ঠিক কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। কারণ, ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও জানিয়েছে, তারা স্পাইওয়্যারটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে বিক্রি করেছিল।

ইজরায়েলের সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হোয়াটসঅ্যাপের
এই বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে যে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফোনে এই আড়ি পাতার চেষ্টা হয়েছে। হ্যাকিং রোধে হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে কাজ করা সংস্থা সিটিজেন ল্যাব বিষয়টি খুঁজে বের করে। এ বছরের মে মাসে বিশ্বজুড়ে ১৪০০ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এই চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনও অঘটন ঘটার আগেই হোয়াটসঅ্যাপের সুরক্ষা প্রযুক্তি ও সিটিজেন ল্যাব বিষয়টি ধরে ফেলে। ইজরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংস্থা এনএসও এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। ভারতের বেশ কিছু সরকারি আধিকারিকের কাছে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাঁদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

'পেগাসাস'
'পেগাসাস' নামক স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে এই আড়ি পাতার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের প্রযুক্তি ছিল এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড। অর্থাৎ শুধুমাত্র যাঁদের মধ্যে ভয়েস বা ভিডিও কল কিংবা মেসেজ চালাচালি হচ্ছে, তাঁরা ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কেউ জানতে পারবে না। সুরক্ষিত থাকবে গোপনীয়তা। কেউ সেটা দেখতে পারবে না। অন্য দিকে যাঁদের অ্যাকাউন্টে এই প্রযুক্তি ঢুকিয়ে আড়ি পাতার চেষ্টা হয়েছিল, তাঁরা এত দিন পর্যন্ত কিছু জানতে পারেননি।

রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ
এদিকে এই বিষয়ে সরকারকে কটাক্ষ করে টুইট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, "হোয়াটসঅ্যাপের থেকে সরকার জানতে চেয়েছে যে আড়ি পাতার জন্য এই প্রযুক্তি কে এনেছে। এটা অনেকটা দাঁসোকে এটা জিজ্ঞাসা করা মতো যে ভারতকে রাফাল বিক্রি করে সবথেকে লাভবান কে হয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications