পাক জেলে বন্দি থাকার সময় অভিনন্দনকে কোন গোপন বার্তা পৌঁছে দেন স্ত্রী তনভি! প্রকাশ্যে এলো তথ্য
চেন্নাইয়ে তাঁর বাড়ির পরিস্থিতি তখন থমথমে। সারা দেশে তখন খবর ছড়িয়েছে যে বায়ুসেনার উইং কামান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের জেলে সেই সময় কয়েদ রয়েছেন।
চেন্নাইয়ে তাঁর বাড়ির পরিস্থিতি তখন থমথমে। সারা দেশে তখন খবর ছড়িয়েছে যে বায়ুসেনার উইং কামান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের জেলে সেই সময় কয়েদ রয়েছেন। এই তথ্য এসে পৌঁছয় অভিনন্দনের স্ত্রী তনভির কাছেও। কিন্তু সেনা পরিবারের পুত্রবধু তথা প্রাক্তন বায়ুসেনা পাইলট তনভি গোটা পরিস্থিতি অত্যন্ত সাহস ও বুদ্ধির সঙ্গে সামলে নেন।

কী জানা যাচ্ছে?
অভিনন্দনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা এজেন্সি আইএসআই 'গুড কপ ব্যাড কপ' নীতি নিয়ে জেরা চালাতে থাকে। এক সর্বভাভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এক পাকিস্তানি সেনা অফিসার এসে তাঁর পাঁজরে আঘাত হানেন, মারধর করেন, আবার পর মুহূর্তেই আরেকজন পাকিস্তানি অফিসার এসে অভিনন্দনকে তাঁর স্ত্রীয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।

স্ত্রী তনভির সঙ্গে কথোপোকথোন
থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই তনভির ফোনে একাধিক অজানা নম্বর থেকে কল আসতে থাকে। ফোন ধরতেই অভিনন্দনের কণ্ঠস্বর শুনে স্বভাবতই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তনভি। প্রশ্ন করেন, 'ছেলেকে কি বলব , কোথায় আছো?' জবাবে অভিনন্দন জানান, 'ছেলেকে জানিয়ো তার বাবা পাকিস্তানের জেলে বন্দি।'

এরপরই সতর্ক হয়ে যান তনভি!
এরপরই সতর্ক হয়ে যান অভিনন্দনের স্ত্রী তনভি। বুঝে ফেলেন পাকিস্তানের শেখানো কথাই বলছেন তাঁর স্বামী। মুহূর্তে নিজেকে সামলে ফেলে তনভি মজার ছলে বলতে শুরু করেন,'চে কেমন খেলে?' জবাব আসে 'ভালো ছিল।' আরও মজা করে তনভি বলেন,'ওরা আমার থেকেও ভালো চা বানিয়েছে?' জবাবে অভিনন্দন হেসে জানান,'হ্যাঁ তুলনামূলক ভালো।'

কোন বার্তা দিয়েছিলেন তনভি?
এরপরই পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে তনভি জানান 'আসার সময় চায়ের রেসিপি নিয়ে এস'। উল্লেখ্য, তনভির এই কথার মধ্যেই স্পষ্ট ছিল যে অভিনন্দনকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর সেই তথ্য এই কথার মধ্য দিয়েই অভিনন্দকে জানিয়ে দেন তনভি।

সেনা ও কোড
উল্লেখ্য, সেনা অফিসারদের প্রশিক্ষণের সময়ই শেখানো হয়, ধরা পড়লে যতটা সম্ভব চুক করে থাকার জন্য। যত বেশি সময় ধরে তাঁরা শত্রু শিবিরে চুপ থাকবেন, ততটা সময় নিয়ে সেনা তার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোড বদলে ফেলতে পারবে। আর পাকিস্তানে যাবতীয় প্রতিকূলতার মুখে অভিনন্দন ঠিক এমনটাই করেছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়াও তাঁর নিজের কাছে থাকা নথির কয়েকটি গিলেও ফেলেছিলেন। ফলে সহজে তাঁর কাছ থেকে কিছু হাতিয়ে নিতে পারেনি পাকিস্তান।












Click it and Unblock the Notifications