খুন হওয়ার আগে বন্ধুদের শেষ মেসেজে কী লিখেছিলেন শ্রদ্ধা? আফতাবের উদ্দেশ্য আঁচ করেই কি সাহায্যের আর্তি?
খুন হওয়ার আগে বন্ধুদের শেষ মেসেজে কী লিখেছিলেন শ্রদ্ধা? আফতাবের উদ্দেশ্য আঁচ করেই কি সাহায্যের আর্তি?
পুলিশের জেরার মুখে নির্লিপ্ত স্বীকারোক্তি আফতাবের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন খুন হওয়ার আগে শেষবার বান্ধবীদের মেসেজ পাঠিয়ে তাঁকে বাঁচানোর আর্জি জানিয়েছিলেন শ্রদ্ধা। এর থেকে তদন্তকারীরা অনুমান করছেন আফতাব যে তাঁকে খুন করতে পারে সেকথা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন শ্রদ্ধা। সেকারণেই হয়তো বন্ধুদের কাছে মেসেজ করেছিলেন। শ্রদ্ধার বান্ধবীদের পাঠানো মেসেজে স্পষ্ট যে প্রায়ই শ্রদ্ধাকে মারধর করত আফতাব।

বন্ধুদের কাছে বাঁচানোর আর্তি শ্রদ্ধা
নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী দিল্লিতে। ছতরপুর পাহাড়ি এলাকায় গতকাল প্রকাশ্যে আসে শ্রদ্ধা ওয়ালকারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর লিভ-ইন-পার্টনার আফতাবকে। প্রেমিকা শ্রদ্ধাকে খুন করে তাঁর দেহের ৩৫ টুকরো করে ফ্রিজে লুকিয়ে রেখেছিল আফতাব। তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। শ্রদ্ধার এক বন্ধু রজত শুক্লা দাবি করেছেন কয়েকদিন আগে শ্রদ্ধা তাঁকে মেসেজ করেছিলেন। সেখানে শ্রদ্ধা বাঁচানোর আর্তি জানিয়েছিলেন। শ্রদ্ধার এই শেষ মেসেজেই লুকিয়ে ছিল তার ভয়। শ্রদ্ধা কি আঁচ করতে পেরেছিল যে আফতাব তাঁকে যে কোনও দিন মেরে ফেলতে পারেন?

কোল্ড-ব্লাডেড কিলার
পরিকল্পনা করে ঠাণ্ডা মাথায় শ্রদ্ধাকে খুন করেছিল আফতাব। শ্রদ্ধা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। অপরাধ ধামা চাপা দিয়ে পরিকল্পনা করে ধাপে ধাপে শ্রদ্ধার দেহের টুকরো মেহেরৌলির জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসতে শুরু করে আফতাব। শ্রদ্ধাকে হত্যা করার পরেও বেশ কিছুদিন তার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ব্যবহার করেছিল আফতাব। যাতে কেউ টের না পায় তার জন্য শ্রদ্ধার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে তার বান্ধবীদের সঙ্গে চ্যাট করত সে। এমনকী শ্রদ্ধা যে বেঁচে রয়েছে তা বোঝাতে তার ইনস্টা,সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে ছবি আপলোড করে সে। পুরোটাই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছিল । কোনও রাগের বশে খুন করেনি আফতাব। সেটা বুঝতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

খুনের কথা স্বীকার
শ্রদ্ধাকে যে কুপিয়ে খুন করেছে সে, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছে আফতাব। পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সেকথা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এরা একধরেন মানসিক রোগের স্বীকার। যাঁরা ভীষণভাবে আত্মকেন্দ্রীক হয়ে থাকে। অন্য যে কেউ তাঁর কাছে অবজেক্ট। নিজেকে খুশি রাখতে তারা যা খুশি করতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আফতাবকে নিয়ে মেহেরৌলির জঙ্গলে গিয়েছিল পুলিশ। আফতাবই দেখিয়ে দিয়েছে কোথায় কোথায় সে শ্রদ্ধার েদহের টুকরো ফেলেছিল। শ্রদ্ধার ১৩টি দেহের টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নির্লিপ্ত আফতাব
খুনের পরেও একেবারে নির্লিপ্ত ছিল আফতাব। শ্রদ্ধাকে খুন করে ফ্রিজে রাখার পরে অনলাইনে খাবার অর্ডার করে খেত সে। সেই ফ্রিজেই খাবার রাখত সে। এমনকী ডেটিং অ্যাপে চ্যাট করে একাধিক মহিলাকে বাড়িতে ডেকে এনে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হয়েছে আফতাব। সেসময় শ্রদ্ধার দেহের টুকরো তার ঘরের ফ্রিজেই রাখা ছিল। রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেড় কিলোমিটার পায়ে হেঁটে শ্রদ্ধার দেহের অংশ মেহেরৌলির জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসত সে।












Click it and Unblock the Notifications