কী এই মারণ ভাইরাস? বিশ্বজোড়া আতঙ্কের মাঝেও করোনাকে চেনে না ভারতের এই এলাকার মানুষ
কড়া নিয়মের বেড়াজালেই কার্যত করোনা মুক্ত লাক্ষাদ্বীপ
মহামারি আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। ইতিমধ্যেই দুনিয়াজুড়ে প্রায় ১৫.৭৫ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই মারণ ভাইরাস। যদিও ভারতের এক ছোট্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও পর্যন্ত জানেই না যে কোভিড কি বা তার চরমতম পরিণতি কেমন হতে পারে! এখনও অবধি লাক্ষাদ্বীপে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ বিশ্ববাসীর।

প্রাথমিক বিধিনিষেধের বলেই করোনার কবল থেকে মুক্ত লাক্ষাদ্বীপ
লোকসভায় লাক্ষাদ্বীপের প্রতিনিধি পি পি মহম্মদ ফয়জলের কথায়, "করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই কড়া ব্যবস্থার গ্রহণের দরুণ ৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত লাক্ষাদ্বীপে একজনও কোভিডে আক্রান্ত হননি।" লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসন সূত্রে খবর, সবরকমের কাগজপত্র সইসাবুদ করলেও লাক্ষাদ্বীপে পা রাখার আগে কোচির কেন্দ্রে সাতদিনের কোয়ারানটাইন বাধ্যতামূলক। আধিকারিকদের মতে, এই নিয়মের জালেই আটকে গেছে করোনা!

জীবনযাত্রা স্বাভাবিক লাক্ষাদ্বীপে
মাত্র ৩৬টি দ্বীপের সমন্বয় লাক্ষাদ্বীপ। ফয়জল জানিয়েছেন, "প্রধানমন্ত্রীর আদেশেই ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে চালু হয়ে গেছে পঠনপাঠন। 'সবুজ অঞ্চল' হওয়ার কারণে একটিও করোনা বিধি আমাদের মেনে চলার দরকার পড়ে না।" তাঁর মতে, "বিবাহ বা অন্যান্য জমায়েতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। স্যানিটাইজার বা মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক নয় একেবারেই।" বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারিতে কেরালায় দেশের প্রথম কোভিড আক্রান্ত ধরা পড়ার পরই মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযোগ ছিন্ন করে লাক্ষাদ্বীপ, যার ফলাফল আজ দেখতে পাচ্ছে গোটা বিশ্ব।

নিয়মের বেড়াজালেই কেল্লাফতে
লাক্ষাদ্বীপের সাংসদ আরও ফয়জল জানিয়েছেন, "২০১৯-এর মার্চ থেকেই প্রধান ভূখণ্ডের সঙ্গে শুধুমাত্র কাভারত্তির সংযোগ রাখা হয়। তাও অন্য যেকোনও স্থান থেকে লাক্ষাদ্বীপে প্রবেশের আগে মূল ভূখণ্ডে কড়া পরীক্ষা ও কোয়ারানটাইনে রাখা হত যে কাউকেই।" লাক্ষাদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, করোনা পরীক্ষার জন্য দ্বীপ প্রশাসন কালামাসেরি সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রও প্রদান করে। পাশাপাশি ফয়জল এও জানিয়েছেন, "মূল ভূখণ্ডে করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এহলে লাক্ষাদ্বীপে এসে আরও এক সপ্তাহ কোয়ারানটাইনে থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এমনকি যতবার দিল্লি গিয়েছি, ততবার প্রত্যেকটি নিয়ম পালন করতে হয়েছে আমাকেও।"

নিস্তার নেই নেগেটিভ রিপোর্টেও
লাক্ষাদ্বীপে আসার আগে কোচির করোনা পরীক্ষায় পজেটিভ ধরা পড়লে যে কোনও ব্যক্তিকেই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠিয়েছে এই দ্বীপ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ১০ দিন পর পুনরায় করোনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ এলে পুনরায় ১৪ দিন থাকার পর তাকে লাক্ষাদ্বীপের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ফয়জলের বক্তব্য, লাক্ষাদ্বীপকে করোনামুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মূল কান্ডারী লাক্ষাদ্বীপ প্রধান দীনেশ্বর শর্মা। কিন্তু দুঃখের খবর এই যে, করোনা ছুঁতে না পারলেও ৪ঠা ডিসেম্বর ফুসফুসের রোগেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications