Tahawwur Rana Extradition: রানাকে হাতে পেতে কেন বারবার ধাক্কা খেতে হচ্ছে ভারতকে? কীভাবে এগোচ্ছে প্রক্রিয়া?
TAHAWWUR RANA EXTRADITION: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন সফরের সময়েই তাহাউর রানাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী রানা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণা পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছুদিন। বিশেষ কোনও গতি এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। এর মধ্যেই নয়া মোড়। নতুন করে মার্কিন আদালতের দ্বারস্থ তাহাউর রানা।
তাঁর দাবি, সে পাক বংশদ্ভুত। আর সেই কারণে ভারতের মাটিতে তাঁর অত্যাচার হতে পারে। ফলে মার্কিন আদালতের কাছে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন। নতুন করে মামলার শুনানি শুরু হবে শীঘ্রই। বিশ্লেষকরা বলছেন, নয়া আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে আরও একবার রানাকে (TAHAWWUR RANA EXTRADITION) হাতে পেতে ভারতের বেশ কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।

বলে রাখা প্রয়োজন, রানার প্রত্যাবর্তনের ((TAHAWWUR RANA EXTRADITION) বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনও সময়সীমা জানায়নি। এক্ষেত্রে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, উভয় দেশ অর্থাৎ ভারত এবং আমেরিকা রানার আত্মসমর্পণ এবং প্রত্যর্পণের বিষয়ে কাজ করছে। শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পই নন, গত ২২১ জানুয়ারি মার্কিন আদালতে বড় কুটনৈতিক জয় পায় ভারত। রানার সমস্ত আবেদন খারিজ করে দেয় মার্কিন আদালত।
TAHAWWUR RANA EXTRADITION: কীভাবে এগোল প্রক্রিয়া -
- ২১ জানুয়ারি, ২০২৫- বড় জয় পায় ভারত। প্রত্যর্পণের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রানার আবেদন খারিজ করে দেয় মার্কিন আদালত। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেদিনই মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
- ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৫ - প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের একদিন আগে মার্কিন আইন এবং মার্কিন-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে রানার ভারতে প্রত্যর্পণের অনুমোদন দেন।
- ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদী ওয়াশিংটন ডিসিতে পা রাখলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করলেন।
- ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫- রানার আইনী পরামর্শদাতা মার্কিন বিদেশ দফতরের কাছে থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি পান। যেখানে প্রত্যাপর্নের বিষয়ে যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ ছিল বলে খবর।
- ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫- কীসের ভিত্তিতে রানাকে প্রত্যর্পন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, প্রশাসনের কাছে সেই সব তথ্য চাইল রানার লিগাল টিম। একই সঙ্গে রানার আইনজীবীরা জানতে চেয়েছেন, রানার চিকিৎসার ব্যাপারে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কি না। সরকার অবশ্য এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দেয়নি।
- ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫ - এই বিষয়ে রানা হেবিয়াস করপাস দায়ের করে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেদিনই মোদী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন। এবং যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী রানাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
- ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৫- অলিভার লেওইস এর দেওয়া ২ পাতার বিবৃতি জমা দিয়েছে মার্কিন সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, রানার অত্যাচারের আশঙ্কা নিয়ে মার্কিন কনভেনশনের (US Convention) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
- ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ -রানার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রত্যর্পণের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫- হাল ছাড়েননি মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। আপিলে আবেদন জানান। সার্কিট কোর্টে জরুরি স্থগিতের আবেদন করেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫- নবম সার্কিট রানা আবেদন খারিজ করে দেয় ফের। প্রত্যাপর্ন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫- প্রত্যাপর্ন প্রক্রিয়ায় দেরি করতে রাজি হয় মার্কিন প্রশাসন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে সুপ্রিম কোর্টে যদি সে আবেদন জানায়।
- ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫- মার্কিন আদালতের দরজায় ফের রানা। প্রত্যাপর্নের বিষয়ে জরুরি স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে নতুন করে আবেদন।
- মার্চ ২, ২০২৫ - নতুন খেলা খেললেন ২৬/১১ মুম্বই হামলারমাস্টার মাইন্ড রানা। আর্মস ডিলার সঞ্জয় ভান্ডারির প্রসঙ্গ তুলে আদালতে আবেদন, অত্যাচার করা হতে পারে সেই আতঙ্কে প্রত্যাপর্নের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনই আশঙ্কার কথা রানা আদালতকে জানায়।
- মার্চ ৫, ২০২৫ - জানা যাচ্ছে, রানার জরুরি আবেদন রেকর্ড করেছে মার্কিন আদালত। খুব শীঘ্রই তারিখ জানানো হবে।












Click it and Unblock the Notifications