Mahakumbh Stampede: ঘটনার ঠিক আগের মুহুর্তে কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শীরাই জানালেন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
আজ মৌনী অমাবস্যা। মহাকুম্ভে অমৃত স্নানের দিন। কথায় আছে এই অমৃত স্নানে পবিত্র ডুব সারলে সারাজীবনের পাপ ধুয়ে যায়, মোক্ষ লাভ করেন ভক্ত। আর এই একমাত্র মোক্ষ লাভের আশায় কোটি কোটি মানুষ ভিড় জমিয়েছেন মহাকুম্ভের তটে। এমন অবস্থাতেই ঘটে গেল ভয়ঙ্কর ঘটনা।
বুধবার মহা কুম্ভের পবিত্র স্নানের সময় সঙ্গমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ফলে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। মৌনী অমাবস্যায় অনুষ্ঠিত এই অমৃত স্নান অনুষ্ঠানে আনুমানিক ১০ কোটি তীর্থযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশৃঙ্খলা এবং অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক ভক্তের মৃত্যু হয়েছে ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবেক মিশ্রের কথায়, বিশাল ভিড় কোথায় যেতে হবে তা বুঝতে না পারায় গুঞ্জন শুরু হয়। ডাস্টবিন ও ব্যারিকেডের কারণে অনেকেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান, যা পদদলিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোন সমস্যাগুলির জন্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল?
নিয়ন্ত্রণহীন ভিড়: এন্ট্রি ও এক্সিট গেট বুঝতে না পারার দরুণ তা বিশৃঙ্খলা বাড়িয়ে দেয়।
অপ্রতুল নিরাপত্তা ও দিক নির্দেশনা: স্নানের পর তীর্থযাত্রীরা কোথায় যাবেন, তা পরিষ্কার ছিল না।
প্রস্থান পথ অবরুদ্ধ: বাইরে যাওয়ার পথ আটকে যাওয়ায় ভিড় আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
পদচ্যুতি ও ধাক্কাধাক্কি: ভারী মালপত্র ও অসতর্কতার ফলে অনেকে পড়ে যান, যার ফলে ব্যাপক পদদলিতের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুযায়ী,
বিবেক মিশ্র (তীর্থযাত্রী) - "আমি পড়ে গিয়েছিলাম এবং আমার জুতো হারিয়ে খালি পায়ে ছিলাম। আমার পায়ে আঘাত লাগে, তবে আমি আমার বাবা-মা এবং অন্য এক মহিলাকে সাহায্য করি। এর মধ্যেই কিছু যুবক ধাক্কাধাক্কি শুরু করে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়"।
রাম সিং (ফতেহপুরের বাসিন্দা) - "প্রস্থান পথ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। আমাদের সামনে পড়ে যাওয়া মানুষজনকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল পদদলিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী"।
বালজিৎ সিং (বালিয়া জেলার বাসিন্দা) - "হঠাৎ এত বিশাল ভিড় জমে গেল যে আমরা কেউ কোথায় আছি তা বুঝতেই পারছিলাম না। আমরা স্নান সারতে যাচ্ছিলাম, আর কিছুজন স্নান সেরে ফিরছিলেন। আর সেই সময়ই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়"।
মূলত, বেশিরভাগ তীর্থযাত্রীই এই কথায় জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা ছিল, আর তার জেরেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। এখনও পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত সংখ্যা ঘোষণা করেননি। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications